FutureNet offers you an excellent platform to earn income from the Internet on a daily basis. We create the first social network platform, which has innovative tools for communicating and our own products to help people around the world realize their full potential on the internet. So you’ve signed up on FutureNet and you’re thinking “wow this looks confusing and incredibly complex”. Don’t panic, this is exactly how I felt. Take a deep breath and start reading.
Recent Posts
Thursday, March 30, 2017
TheAds TEAM Academy- Learn And Earn
What is the AdsTEAM Academy?
TheAdsTEAM Academy is your guide to become a pro in online marketing. Everyone knows that laptop lifestyle is real and its possible, we have seen hundreds and thousands of success stories in past several year. Many want to become a part of this success but do not know where to start from. Either
কুমিরের কাছ থেকে একজন ফরেক্স ট্রেডার যা শিখতে পারে
অতিকায় হস্তি, ডায়নোসর যেখানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেখানে কুমির প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে আছে। মানুষের পর কুমিরকেই এমন প্রাণী ধরা হয় যারা অন্যতম সফল প্রাণী হিসেবে এতো সময় ধরে বিবর্তনের মধ্যে দিয়েও পৃথিবীতে টিকে আছে। কুমির কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান এবং সুযোগসন্ধানী প্রাণী। কুমির তাদের শিকারের প্রকৃতি বেশ ভালভাবে প্রথমে পরিলক্ষন করে এবং এরপর অনেক সময় অপেক্ষা করে। অপেক্ষা করতে করতে কুমির ক্ষুধার্ত হয়ে গেলেও তারা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকে, এবং সঠিক সময় এলে বেশ আত্মবিশ্বাস এবং নির্ভুলভাবে শিকারকে ধরে ফেলে। একটি ট্রেডিং ব্লগে এই কুমির সম্পর্কে পড়ে ভেবে দেখলাম আসলেই একটি কুমিরের কাছ থেকে একজন ফরেক্স ট্রেডারের শেখার রয়েছে অনেক কিছু। আমরা মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী। অন্য কোন প্রাণীর কোন গুন কাজে লাগিয়ে আমরা যদি আরও সফল হয়ে উঠতে পারি ট্রেডিংয়ে, তবে কেন নয়? চলুন দেখে নেয়া এই ধৈর্যশীল এবং নিষ্ঠ প্রাণীটি থেকে কি কি শেখার রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি আরও ভালো একজন ফরেক্স ট্রেডার হয়ে উঠতে পারবেন।
কুমির কিন্তু একজন ট্রেডারের রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে। কুমিরের আচরনের সাথে তুলনা করলেই আপনি দেখতে পারেন একজন ট্রেডারের ঠিক কি রকম আচরন করা উচিত। ট্রেডিং করতে গিয়ে যদি কুমিরের আচরনগুলো আপনি মেনে চলতে পারেন, আপনার সফল ট্রেডার হয়ে ওঠার সুযোগ বেড়ে যাবে অনেকাংশেই। কুমির যেভাবে শিকার করে, ট্রেডিং করতে গিয়ে যদি ওভাবে আমরা ট্রেড করি, তাহলে আমরা আরও ধৈর্যশীল হয়ে উঠতে পারবো। কুমির খুব দ্রুত সবকিছু শিখে ফেলতে পারে যেটা ট্রেডিং করতে গেলে আমাদের অবশ্যই একটি বড় গুন হওয়া উচিত। কুমির বুঝতে পারে কখন তার ঝুঁকি নেয়া উচিত নয়, কোন শিকারটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কখন শিকারটিকে আক্রমন করলে সফলভাবে তাকে শিকার করা যাবে, তার জন্য যত সময়ই অপেক্ষা করতে হোক না কেন, কুমির তা করে। এবং শেষে যদি মনে করে যে না এই শিকারটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তবে পিছিয়ে আসে। ফরেক্স ট্রেডারদের ঠিক একই গুনটি অর্জন করা উচিত। ট্রেড করার সময় আপনাকে ঝুঁকি বুঝতে হবে, বুঝতে হবে কোন ট্রেডটি নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবেগের বসে ট্রেড না নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে সঠিক পয়েন্ট থেকে ট্রেড নেওয়ার জন্য, যাতে ঝুঁকিহীন ভাবে ট্রেড নেওয়া সম্ভব হয়, এবং লাভও বেশী করা সম্ভব হয়। শেষমেশ যদি অপেক্ষা করে দেখা যায় যে ট্রেড বিপরীতে যেতে পারে, তবে জোর করে ট্রেড না নিয়ে ট্রেডিং থেকে বিরত থাকতে হবে, এবং ভালো ট্রেডের সুযোগ খুঁজতে হবে।
ভেবে দেখুন, আপনি যদি কুমির হতেন, আর যদি বুঝতে একজন বন্দুকওয়ালা মানুষকে ক্ষেতে গেলে তার বন্দুকের গুলি খেয়ে মরার সুযোগ আছে, আপনি কি ভাগ্য পরীক্ষা করতেন? অবশ্যই করতেন না, কারণ ভাবতেন পেটে যতই খুধা থাকুক, আগে প্রান বাচিয়ে নেই, বেচে থাকলে অনেক খাওয়া যাবে। কিন্তু ট্রেডার হয়ে ট্রেড করার সময় বেশিরভাগ ট্রেডারই কিন্তু এরকম ভাবে না। তারা ভাবেন না যে আগে অ্যাকাউন্ট টিকিয়ে রাখি, তাহলে ভালো ট্রেডিংয়ের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও অনেক ট্রেড করতে পারবো। আমরা সামনে যা পাই তাই কখেতে চাই বলে টিকে থাকতে পারি না ফরেক্সে।
কুমিরের কথা ভেবে দেখুন। সে বিশাল একটি প্রাণী। বেচে থাকার জন্য তার প্রোটিনযুক্ত খাবার দরকার। কুমির কিন্তু ছোট ছোট পুঁটিমাছ শিকার করার চেষ্টা করে তার এনার্জি নষ্ট করে না। সে বড় শিকারের অপেক্ষায় থাকে, কিন্তু নিরাপদ শিকার খোঁজে। অনেক ফরেক্স ট্রেডারই ছোট ছোট স্ক্যাল্পিং করে অল্প অল্প লাচ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু স্ক্যাল্পিং ট্রেডগুলো বিপরীতে চলে গেলে বিশাল লস করে ফেলেন। দেখা যায় একজন ট্রেডার ১০টি স্ক্যাল্পিং ট্রেড করে ৯০ পিপস লাভ করলো, আর একটি স্ক্যাল্পিং ট্রেড হুট করে বিপরীতে চলে গিয়ে ১০০ পিপস লস করিয়ে দিলো। তাই আপনি কুমিরের মত বুঝে শুনে মার্কেটে বড় ট্রেড নিয়ে বড় ধরনের লাভ করতে পারলে সেটা আপনার জন্য ভালো হবে। আপনাকে ট্রেড করতে হবে কম, কিন্তু ভালো কয়েকটি বড় ট্রেড করতে পারলেই তার লাভ দিয়ে আপনার পুষিয়ে যাবে। কুমিরের মত ভাল ট্রেডের সুযোগের অপেক্ষা করবেন, পুঁটিমাছ মার্কা স্ক্যাল্পিংয়ের সুযোগ দেখে নিজেকে বিভ্রান্ত করবেন না। কুমির যখন একটি মানুষ, কুকুর বা ক্যাঙ্গারু খাবে মজা করে, আপনি তখন আরাম করে ২০০-৩০০ পিপস লাভের একটি ট্রেড বন্ধ করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাবেন। কুমিরের কাছ থেকে অপেক্ষা করার পদ্ধতি শিখে নিতে পারলে, ফরেক্স মার্কেটে আপনার সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।
অনেক ট্রেডার সপ্তাহে ২০টি ট্রেড করেন। কিন্তু কুমিরমার্কা ট্রেডার সপ্তাহে ৩-৪টি ভালো ট্রেড করেন। হিসেব করলে দেখা যাবে সপ্তাহশেষে কুমিরমার্কা ট্রেডারদেরই লাভের পাল্লা অধিকাংশ সময় ভারী হয়। একটি ট্রেড ওপেন করার পর সেটি বন্ধ করার সেরা সুযোগ খুঁজবেন, ভাববেন কখন ট্রেডটি বন্ধ করলে ভালো পরিমাণ লাভ করা সম্ভব হবে। ৫০ পিপস লাভ করে খুশিতে ট্রেড বন্ধ না করে দিয়ে ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন মার্কেট আসলেই কোনদিকে যেতে পারে এবং কত সর্বোচ্চ নিরাপদ প্রফিট আপনি নিতে পারবেন।
কুমিরদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল তাদের সাফল্যের হার অনেক বেশী। তার মানে হল কুমির যদি কোন শিকারকে ভালোভাবে টার্গেট করে, সেই শিকারের নিস্তার পাওয়ার সুযোগ খুব কমই বলা চলে। আপনি কি এমন একজন ট্রেডার হতে চান না? বুঝে শুনে এমন ট্রেডই টার্গেট করুন, যা থেকে আপনার লাভ হওয়ার সুযোগই বেশী হবে। কুমির যেমন ভাগ্য পরীক্ষা করে না শিকার করতে গিয়ে, আজন থেকে আপনিও যদি ট্রেডিংয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করা বন্ধ করে সঠিক শিকারে মন দিতে পারেন, লাভের হার অনেক বেড়ে যাবে। কুমির কিন্তু তার শিকারকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, কিন্তু সে নিজেকে, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রন করে পারফেক্টভাবে শিকারকে ধরে ফেলে। আমরাও আমাদের ফরেক্স মার্কেটকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবোনা। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের লোভ, সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা, দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ন্ত্রন করতে পারে, তবে লাভবান ট্রেড করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
কুমির খুব দ্রুতই ঝুঁকি বুঝতে পারে, এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিকার থেকে দূরে থাকে। এবং ভবিষ্যতে আর সে ধরনের শিকার করার চেষ্টা করে না। তারা খুব দ্রুতই শিক্ষা গ্রহন করে। ফরেক্স ট্রেডিং করতে গেলেও আপনি যখন মার্কেটে ঝুঁকি বুঝতে পারবেন, বা একভাবে ট্রেড করে লস করবেন, তখন পরবর্তীবার সেই ধরনের ট্রেড থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। ঝুঁকি থেকে বিরত না থেকে ভাগ্য পরীক্ষামুলক ট্রেড করলে আপনি একদিন না একদিন অ্যাকাউন্ট শুন্য করবেনই করবেন। কুমির যেমন প্রানের ঝুঁকি নেয় না, আপনিও ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের ঝুঁকি নেয়া বন্ধ করুন।
কুমিরের আরেকটি গুন তারা পরের শিকারটির জন্য তাদের শক্তি সঞ্চয় করে। যেহুতু তারা বড় শিকার করে, তাই অনেকদিন তাদের আবার না খেলেও চলে। তাই তারা শক্তি সঞ্চয় করে পরবর্তী শিকারের জন্য এবং সুযোগসন্ধানী থাকে। আপনি এভাবে একটি ভালো ট্রেড করতে পারলে পরবর্তী ভালো ট্রেডের অপেক্ষায় সুযোগসন্ধানী থাকবেন। দুর্বল ট্রেডের সুযোগ দেখলেই লাফিয়ে পড়বেন না। যেহুতু একটি ভালো ট্রেড করে ভালো লাভ করে ফেলেছেন, এবার একটু অপেক্ষা তো করাই যায়। ভালো আরেকটি ট্রেডের সুযোগ পাওয়ার জন্য সময় নিন। তাড়াহুড়ার কিছুই নেই। মার্কেটে সব ভালো লাভ করার সুযোগ যে কাজে লাগাতেই হবে এমন কোন কথা নেই।
কুমির সকল পরিস্থিতিতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। এবং আসল কথা হল ট্রেড করতে গেলেও আপনার একই গুনটি থাকা উচিত। মার্কেটে একেক সময় একেক পরিস্থিতি থাকলে। কখনো মার্কেট অনেক শান্ত থাকে, কখনও অনেক অশান্ত। কখনো লাভ করা বেশ সহজ হয়, কখনও মার্কেট উল্টাপাল্টা আচরন করে। তাই আপনাকেও এরকম পরিস্থিতির সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে। সব মার্কেট কন্ডিশনে একই ভাবে ট্রেড করলে কিন্তু চলবে না। ভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে হবে। কনফিউশনে থাকলে ট্রেড থেকে বিরত থাকতে হবে। সবসময় বুঝে ট্রেড করতে হবে, যা বুঝবেন না, তা বুঝার চেষ্টা যদি আমরা করি, তবে সাফল্যের হার আমাদের অনেক বেড়ে যাবে। আমরা যদি কুমিরের গুন গুলো বুঝে সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহন করি, তবে ফরেক্সে টিকে থাকা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে। কুমির যদি সৃষ্টির প্রায় শুরু থেকে এখন অব্দি টিকে থাকতে পারে, আমরা কেন আমাদের ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট টিকিয়ে রাখতে পারবো না? নিজেকেই প্রশ্ন করুন।
কুমির কিন্তু একজন ট্রেডারের রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে। কুমিরের আচরনের সাথে তুলনা করলেই আপনি দেখতে পারেন একজন ট্রেডারের ঠিক কি রকম আচরন করা উচিত। ট্রেডিং করতে গিয়ে যদি কুমিরের আচরনগুলো আপনি মেনে চলতে পারেন, আপনার সফল ট্রেডার হয়ে ওঠার সুযোগ বেড়ে যাবে অনেকাংশেই। কুমির যেভাবে শিকার করে, ট্রেডিং করতে গিয়ে যদি ওভাবে আমরা ট্রেড করি, তাহলে আমরা আরও ধৈর্যশীল হয়ে উঠতে পারবো। কুমির খুব দ্রুত সবকিছু শিখে ফেলতে পারে যেটা ট্রেডিং করতে গেলে আমাদের অবশ্যই একটি বড় গুন হওয়া উচিত। কুমির বুঝতে পারে কখন তার ঝুঁকি নেয়া উচিত নয়, কোন শিকারটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কখন শিকারটিকে আক্রমন করলে সফলভাবে তাকে শিকার করা যাবে, তার জন্য যত সময়ই অপেক্ষা করতে হোক না কেন, কুমির তা করে। এবং শেষে যদি মনে করে যে না এই শিকারটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তবে পিছিয়ে আসে। ফরেক্স ট্রেডারদের ঠিক একই গুনটি অর্জন করা উচিত। ট্রেড করার সময় আপনাকে ঝুঁকি বুঝতে হবে, বুঝতে হবে কোন ট্রেডটি নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবেগের বসে ট্রেড না নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে সঠিক পয়েন্ট থেকে ট্রেড নেওয়ার জন্য, যাতে ঝুঁকিহীন ভাবে ট্রেড নেওয়া সম্ভব হয়, এবং লাভও বেশী করা সম্ভব হয়। শেষমেশ যদি অপেক্ষা করে দেখা যায় যে ট্রেড বিপরীতে যেতে পারে, তবে জোর করে ট্রেড না নিয়ে ট্রেডিং থেকে বিরত থাকতে হবে, এবং ভালো ট্রেডের সুযোগ খুঁজতে হবে।
ভেবে দেখুন, আপনি যদি কুমির হতেন, আর যদি বুঝতে একজন বন্দুকওয়ালা মানুষকে ক্ষেতে গেলে তার বন্দুকের গুলি খেয়ে মরার সুযোগ আছে, আপনি কি ভাগ্য পরীক্ষা করতেন? অবশ্যই করতেন না, কারণ ভাবতেন পেটে যতই খুধা থাকুক, আগে প্রান বাচিয়ে নেই, বেচে থাকলে অনেক খাওয়া যাবে। কিন্তু ট্রেডার হয়ে ট্রেড করার সময় বেশিরভাগ ট্রেডারই কিন্তু এরকম ভাবে না। তারা ভাবেন না যে আগে অ্যাকাউন্ট টিকিয়ে রাখি, তাহলে ভালো ট্রেডিংয়ের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও অনেক ট্রেড করতে পারবো। আমরা সামনে যা পাই তাই কখেতে চাই বলে টিকে থাকতে পারি না ফরেক্সে।
কুমিরের কথা ভেবে দেখুন। সে বিশাল একটি প্রাণী। বেচে থাকার জন্য তার প্রোটিনযুক্ত খাবার দরকার। কুমির কিন্তু ছোট ছোট পুঁটিমাছ শিকার করার চেষ্টা করে তার এনার্জি নষ্ট করে না। সে বড় শিকারের অপেক্ষায় থাকে, কিন্তু নিরাপদ শিকার খোঁজে। অনেক ফরেক্স ট্রেডারই ছোট ছোট স্ক্যাল্পিং করে অল্প অল্প লাচ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু স্ক্যাল্পিং ট্রেডগুলো বিপরীতে চলে গেলে বিশাল লস করে ফেলেন। দেখা যায় একজন ট্রেডার ১০টি স্ক্যাল্পিং ট্রেড করে ৯০ পিপস লাভ করলো, আর একটি স্ক্যাল্পিং ট্রেড হুট করে বিপরীতে চলে গিয়ে ১০০ পিপস লস করিয়ে দিলো। তাই আপনি কুমিরের মত বুঝে শুনে মার্কেটে বড় ট্রেড নিয়ে বড় ধরনের লাভ করতে পারলে সেটা আপনার জন্য ভালো হবে। আপনাকে ট্রেড করতে হবে কম, কিন্তু ভালো কয়েকটি বড় ট্রেড করতে পারলেই তার লাভ দিয়ে আপনার পুষিয়ে যাবে। কুমিরের মত ভাল ট্রেডের সুযোগের অপেক্ষা করবেন, পুঁটিমাছ মার্কা স্ক্যাল্পিংয়ের সুযোগ দেখে নিজেকে বিভ্রান্ত করবেন না। কুমির যখন একটি মানুষ, কুকুর বা ক্যাঙ্গারু খাবে মজা করে, আপনি তখন আরাম করে ২০০-৩০০ পিপস লাভের একটি ট্রেড বন্ধ করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাবেন। কুমিরের কাছ থেকে অপেক্ষা করার পদ্ধতি শিখে নিতে পারলে, ফরেক্স মার্কেটে আপনার সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।
অনেক ট্রেডার সপ্তাহে ২০টি ট্রেড করেন। কিন্তু কুমিরমার্কা ট্রেডার সপ্তাহে ৩-৪টি ভালো ট্রেড করেন। হিসেব করলে দেখা যাবে সপ্তাহশেষে কুমিরমার্কা ট্রেডারদেরই লাভের পাল্লা অধিকাংশ সময় ভারী হয়। একটি ট্রেড ওপেন করার পর সেটি বন্ধ করার সেরা সুযোগ খুঁজবেন, ভাববেন কখন ট্রেডটি বন্ধ করলে ভালো পরিমাণ লাভ করা সম্ভব হবে। ৫০ পিপস লাভ করে খুশিতে ট্রেড বন্ধ না করে দিয়ে ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন মার্কেট আসলেই কোনদিকে যেতে পারে এবং কত সর্বোচ্চ নিরাপদ প্রফিট আপনি নিতে পারবেন।
কুমিরদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল তাদের সাফল্যের হার অনেক বেশী। তার মানে হল কুমির যদি কোন শিকারকে ভালোভাবে টার্গেট করে, সেই শিকারের নিস্তার পাওয়ার সুযোগ খুব কমই বলা চলে। আপনি কি এমন একজন ট্রেডার হতে চান না? বুঝে শুনে এমন ট্রেডই টার্গেট করুন, যা থেকে আপনার লাভ হওয়ার সুযোগই বেশী হবে। কুমির যেমন ভাগ্য পরীক্ষা করে না শিকার করতে গিয়ে, আজন থেকে আপনিও যদি ট্রেডিংয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করা বন্ধ করে সঠিক শিকারে মন দিতে পারেন, লাভের হার অনেক বেড়ে যাবে। কুমির কিন্তু তার শিকারকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, কিন্তু সে নিজেকে, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রন করে পারফেক্টভাবে শিকারকে ধরে ফেলে। আমরাও আমাদের ফরেক্স মার্কেটকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবোনা। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের লোভ, সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা, দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ন্ত্রন করতে পারে, তবে লাভবান ট্রেড করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
কুমির খুব দ্রুতই ঝুঁকি বুঝতে পারে, এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিকার থেকে দূরে থাকে। এবং ভবিষ্যতে আর সে ধরনের শিকার করার চেষ্টা করে না। তারা খুব দ্রুতই শিক্ষা গ্রহন করে। ফরেক্স ট্রেডিং করতে গেলেও আপনি যখন মার্কেটে ঝুঁকি বুঝতে পারবেন, বা একভাবে ট্রেড করে লস করবেন, তখন পরবর্তীবার সেই ধরনের ট্রেড থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। ঝুঁকি থেকে বিরত না থেকে ভাগ্য পরীক্ষামুলক ট্রেড করলে আপনি একদিন না একদিন অ্যাকাউন্ট শুন্য করবেনই করবেন। কুমির যেমন প্রানের ঝুঁকি নেয় না, আপনিও ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের ঝুঁকি নেয়া বন্ধ করুন।
কুমিরের আরেকটি গুন তারা পরের শিকারটির জন্য তাদের শক্তি সঞ্চয় করে। যেহুতু তারা বড় শিকার করে, তাই অনেকদিন তাদের আবার না খেলেও চলে। তাই তারা শক্তি সঞ্চয় করে পরবর্তী শিকারের জন্য এবং সুযোগসন্ধানী থাকে। আপনি এভাবে একটি ভালো ট্রেড করতে পারলে পরবর্তী ভালো ট্রেডের অপেক্ষায় সুযোগসন্ধানী থাকবেন। দুর্বল ট্রেডের সুযোগ দেখলেই লাফিয়ে পড়বেন না। যেহুতু একটি ভালো ট্রেড করে ভালো লাভ করে ফেলেছেন, এবার একটু অপেক্ষা তো করাই যায়। ভালো আরেকটি ট্রেডের সুযোগ পাওয়ার জন্য সময় নিন। তাড়াহুড়ার কিছুই নেই। মার্কেটে সব ভালো লাভ করার সুযোগ যে কাজে লাগাতেই হবে এমন কোন কথা নেই।
কুমির সকল পরিস্থিতিতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। এবং আসল কথা হল ট্রেড করতে গেলেও আপনার একই গুনটি থাকা উচিত। মার্কেটে একেক সময় একেক পরিস্থিতি থাকলে। কখনো মার্কেট অনেক শান্ত থাকে, কখনও অনেক অশান্ত। কখনো লাভ করা বেশ সহজ হয়, কখনও মার্কেট উল্টাপাল্টা আচরন করে। তাই আপনাকেও এরকম পরিস্থিতির সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে। সব মার্কেট কন্ডিশনে একই ভাবে ট্রেড করলে কিন্তু চলবে না। ভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে হবে। কনফিউশনে থাকলে ট্রেড থেকে বিরত থাকতে হবে। সবসময় বুঝে ট্রেড করতে হবে, যা বুঝবেন না, তা বুঝার চেষ্টা যদি আমরা করি, তবে সাফল্যের হার আমাদের অনেক বেড়ে যাবে। আমরা যদি কুমিরের গুন গুলো বুঝে সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহন করি, তবে ফরেক্সে টিকে থাকা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে। কুমির যদি সৃষ্টির প্রায় শুরু থেকে এখন অব্দি টিকে থাকতে পারে, আমরা কেন আমাদের ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট টিকিয়ে রাখতে পারবো না? নিজেকেই প্রশ্ন করুন।
লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে কি রকম সময় লাগে?
ফরেক্সে সবাই লাভ করার জন্যই আসেন। কিন্তু সবাই কি ফরেক্স ট্রেডিং শুরু করেই লাভ করা শুরু করে দিতে পারেন? পারেন না। ফরেক্স ট্রেডিং বা যেকোনো বিনিয়োগনির্ভর ব্যবসা করতে গেলে জানার পরিধিকে অনেক বাড়াতে হয়, শিখতে হয় অনেক কিছু। এ শেখাটি কেউ লস করে শিকেন, কেউ অন্যকে দেখে শিখেন, কেউ বা পড়ে শিখেন। একেকজনের শিখতেও লেগে যায় অনেক বছর। কেউ কেউ ৩-৪ বছর ধরে ট্রেড করছেন, কিন্তু শিখে উঠতে পারেননি কিছুই, আবার কেউ কেউ ৬ মাসেই হয়তো পরিশ্রম করে মার্কেটকে ভালভাবে দখলে নিয়ে এসেছেন। নতুন ফরেক্স শিখছেন বা অনেক বছর ফরেক্স ট্রেডিং করে ব্যর্থ সবারই একই জিজ্ঞাসা, কবে লাভবান ফরেক্স ট্রেডার হয়ে উঠতে পারবো। এ লেখায় আপনার সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
ফরেক্সে লাভবান ট্রেডার হয়ে ওঠা যায় কিভাবে?
লাভবান ফরেক্স ট্রেডার হতে কতদিন লাগে, এই প্রশ্নের চাইতে একজন ট্রেডারের যেই প্রশ্নটি করা গুরুত্বপূর্ণ তা হল একজন লাভবান ট্রেডার কিভাবে হয়ে ওঠা যায়। সেই লাভবান ট্রেডার হয়ে ওঠার গুনগুলো অর্জন করতে আপনার যতদিন লাগবে, ঠিক ততদিন সময়ই প্রয়োজন হবে আপনার একজন লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে। মনে রাখতে হবে, যেকোনো বিষয়ে সফল হবার পূর্বশর্ত হল সে বিষয়ে প্রচুর অভিজ্ঞতা লাভ। সাফল্যের কোন শর্টকার্ট নেই, সেটা যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন। ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মূল সমস্যা হল আপনি ট্রেড করতে গিয়ে আসে-পাশের বিভিন্ন ট্রেডারদের লোভনীয় অফার-স্ক্রিনশট দেখে নিজেকে বিভ্রান্ত করে ফেলবেন। বেশিরভাগ ট্রেডার তাই করেন। তাই ১০০ তলা সাফল্যের বিল্ডিংয়ে বেশিরভাগ ট্রেডার সিঁড়ি রেখে ঝুঁকিপূর্ণ লিফট দিয়ে উঠতে চেষ্টা করে, মাঝ পথে লিফট আটকে যায়। তারপর আবার নেমে আবার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে শুরু করেন, মাঝে আবার লোভনীয় লিফট দেখে আবার শর্টকার্ট মেরে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু লোভনীয় লিফটগুলো কখনোই গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না। সাফলের ১০০ তলায় উঠতে হলে আপনাকে সিঁড়ি বেয়েই কষ্ট করে উঠতে হবে। কত সময় লাগবে? তা আসলে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ হল একেকজনের শেখার ক্ষমতা একেকরকম। কিন্তু যারা শর্টকাটে শিখতে গিয়ে এদিক ওদিক লোভে পড়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, তারা ১০ বছর ফরেক্স ট্রেডিং করলেও হয়তো কিছু শিখবেন না, কিন্তু যে সঠিক পথে চেষ্টা করবেন, তিনি হয়তো ৬ মাসেই পারবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি কতদিনে একজন লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে পারবেন, প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে পুরোপুরি আপনার নিজের ওপর।
তবে যতই সময় যাবে, আপনার অভিজ্ঞতা ততই বাড়বে, আপনি ততই পরিপক্ক হয়ে উঠবেন। এর কারণ হল বিভিন্ন ধরনের মার্কেট কন্ডিশন এক্সপেরিয়েন্স করা। গ্রিস ক্রাইসিস যে দেখেনি, সে বুঝতোনা যে ইউরো এভাবে দুর্বল হতে পারে, ব্রেক্সিট যেই ট্রেডার দেখেনি, তার পক্ষে বোঝা কঠিন এভাবে পাউন্ড রাতারাতি দুর্বল হতে পারে, ইউরোপ-আমেরিকার নির্বাচনগুলো প্রত্যক্ষ না করলে ফরেক্স মার্কেটে এগুলোর প্রভাব বোঝা কঠিন, এনএফপির বিধ্বংসী মুভমেন্ট না দেখলে ট্রেডারদের পক্ষে বোঝা কঠিন যে একটি নিউজ ডাটা রিলিজ মার্কেটে এভাবে প্রভাব রাখতে পারে। মার্কেটে যে সব কিছুই সম্ভব, কোন প্রাইস লেভেলই যে অসম্ভব নয়, এগুলো বুঝতে হলে মার্কেটের সাথে আপনাকে সময় কাটাতেই হবে।
তবে...
প্রফিট করতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মানি ম্যানেজমেন্ট। এবং আপনাকে বুঝতে হবে ফরেক্সে একবার লাভ মানেই লাভ না। নিয়মিত লাভ করে যে ট্রেডার, সেই কিন্তু লাভবান ট্রেডার। একবার গ্যাম্বলিং করে বিশাল লাভ করে ফেলেছে, তাকে আপনি লাভবান ট্রেডার বলতে পারেন না। আপনি যদি লাভবান ট্রেডার হতে চান, আপনাকে এমনভাবেই ট্রেড করতে হবে, যাতে নিয়মিত লাভ করতে পারেন। একবার ১০,০০০ ডলারকে ২০,০০০ ডলার বানিয়ে ফেললেন, পরে সেই ২০,০০০ থেকে লস করে আবার ৫০০০ ডলারে চলে আসলেন, আপনি কিন্তু লাভবান ট্রেডার নন। আপনি নিশ্চয়ই চান যে লাভ কম হলেও, লাভটা যেন নিয়মিত হয়। তার জন্য দরকার সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট। ট্রেডটাই এমনভাবে করতে হবে যাতে অ্যাকাউন্টে বড় ধরনের লস না হয়। কারণ অ্যাকাউন্ট শুন্য হয়ে গেলে ট্রেড করবেন কি দিয়ে? এই ব্যাপারটি আমিও অনেক পরে এসে বুঝেছি যে ফরেক্সে লাভবান ট্রেডার হতে চাইলে আগে অ্যাকাউন্ট বাঁচাতে হবে। অ্যাকাউন্ট টিকে থাকলে লাভ এমনিতেই আসবে।
মার্কেট সম্পর্কে আপনার জ্ঞ্যান প্রতিনিয়ত বাড়বে। শিক্ষার কোন শেষ নেই। যতই আমরা শিখতে পারবো, ততই আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নির্দিষ্ট কিছু সময় অতিবাহিত না করলে লাভবান ট্রেডার হয়ে ওঠা যাবে না। আবার হুট করেও লাভবান ট্রেডার হয়ে ওঠা যাবে না। অনেক কিছু শিখুন, অনেক কিছু জানুন। সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারলে ১ বছরেই আপনি লাভবান ট্রেডারে পরিনত হতে পারবেন। ১ বছরেই সবাই লাভবান ট্রেডার হতে পারবে তা বলছি না। কিন্তু সঠিকভাবে কিছু বিষয় মেনে চললে, মার্কেট সম্পর্কে আইডিয়া নিতে পারলে সম্ভব হবে। আহামরি প্রফিট করতে পারবেন তা নয়। কিন্তু লসের পাল্লা থেকে লাভের পাল্লায় চলে আসতে পারবেন।
কবে সফল ট্রেডার হয়ে উঠতে পারবো, এটা কোন সঠিক প্রশ্ন নয়। কিভাবে সফল ট্রেডার হয়ে উঠতে পারবো, এটাই সবার প্রশ্ন হওয়া উচিত। এ প্রশ্নের উত্তর পেলেই আপনি নিজেকে আরও উন্নত করতে পারবেন এবং সফল ট্রেডারে রুপান্তর করতে পারবেন। কবে সফল হব, এ ধরনের প্রশ্ন শুধুমাত্র আপনার লোভই বাড়াবে। আর লোভ থেকেই আমরা বেশী বেশী ট্রেড করি, ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেড করি, যার ফলশ্রুতিতে আমরা লস করে ফেলি। কবে সফল হব থেকে দৃষ্টি সরিয়ে যদি আমরা কিভাবে সফল হব সেই দিকে মননিবেশ করতে পারি, তবেই সফল হওয়া যাবে।
আগামীকাল প্রকাশিত হবে কিভাবে আপনি এই নতুন বছর ২০১৭ তে একজন লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে পারেন।
কিভাবে ২০১৭ তে আপনি একজন লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে পারেন
শুরু হয়েছে নতুন একটি বছর। এক বছর অনেকের কাছে অনেক বড় সময় মনে হয়। সবাই চায় ১ সপ্তাহের মধ্যেই লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে। কিন্তু এমন করেই হয়তো আপনি গত ২ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন। সামনে আরও ২ বছর কাটিয়ে ফেলবেন। কিন্তু এ বছরে যদি আপনি কিছু কাজ মন দিয়ে করতে পারেন, আপনি অবশ্যই লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে পারবেন। অনেকেই সবসময় একটি প্রশ্ন করেন, তা হল লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে কি রকম সময় লাগে? এ প্রশ্নের উত্তর আমি গতকালের লেখায় তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। আজকের লেখাটি অনুসারে যদি আপনি এ বছরটি কাটাতে পারেন, তবে ২০১৭ সাল হবে আপনার ট্রেডিং ক্যারিয়ারের একটি সার্থক বছর। লস কাটিয়ে আপনি হয়ে উঠতে পারবেন একজন লাভবান ট্রেডার। যে বিষয়গুলো এই লেখায় আলোচনা করা হবে, তা এমন কোন গোপন সিক্রেট না যে আপনি পেলেই অনেক লাভবান হয়ে যেতে পারবেন। এগুলো আপনি সবসময়ই শুনে এসেছেন, কিন্তু কখনো মনযোগ দিয়ে কাজে লাগাননি। এ বিষয়গুলো প্রায় সকল ট্রেডারই জানে, কিন্তু মানে না। আপ্ন যদি মানতে পারেন সঠিকভাবে, সফলতার কাতারে আপনি চলে আসতে পারবেন।
২০১৭ সালে আপনি একজন লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে চাইলে আপনাকে কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা করতে হবে তা হল নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রন আপনার নিজের হাতে ফিরিয়ে নিতে হবে। আমরা বেশিরভাগ মানুষের জীবন এমনি এমনি কেটে যায়। নতুন বছর শুরু হয়, আমাদের অনেক পরিকল্পনা এবং টার্গেট থাকে। কিন্তু কোন ফাঁকে যে বছরটি চলে যায়, আমরা টেরও পাইনা। কিন্তু ফরেক্স ট্রেডিংকে যদি আপনি সিরিয়াসলি নিতে চান, আপনাকে অবশ্যই এবার নিজেকেও সিরিয়াস হতে হবে।
সাপ্তাহিক এবং মাসিক ট্রেডের পর্যালোচনা করাঃ একটি বছরে ৫২ টি সপ্তাহ এবং ১২টি মাস থাকে। আপনাকে যেই কাজটি করতে হবে, তা হল এখন থেকেই আপনি ভালো হোক, বা খারাপ হোক, যেরকমই ট্রেড করতে পারেন না কেন, কোন Excel Sheet কিংবা নোটবুকে তার হিসেব রাখা শুরু করুন। একটি চার্ট তৈরি করতে পারলে ভালো হয়। আমি পরে সময় পেলে একটি Excel Sheet শেয়ার করার চেষ্টা করবো। এই Sheet টি আপনার সামনে থাকলে আপনার যেই সুবিধা হবে, আপনি আপনার নিজের পর্যালোচনা করতে পারবেন। কি কি বিষয় এখানে লিপিবদ্ধ রাখবেন তা বলছি। পুরো হিসাবটি আপনি প্রতি সপ্তাহ এবং প্রতি মাসের জন্য আলাদাভাবে করবেন। প্রথমে আপনি লিখবেন ঐ সপ্তাহ বা মাসে আপনি কত লাভ বা লস করলেন। এর অর্থ হল আপনি যে পরিমাণ ক্যাপিটাল দিয়ে ট্রেড শুরু করেছিলেন ঐ পিরিয়ডটি শুরু হবার আগে, তার থেকে কত লাভ বা লস হল। আপনাকে লিখে রাখতে হবে আপনার সর্বমোট কত পিপস লাভ হল, এবং কত পিপস লস হল। এরপর লিখে রাখবেন যে পরিমাণ লাভ বা লস হল, তা আপনার সর্বমোট ক্যাপিটালের কত শতাংশ? আর হিসাব রাখবেন সেই সপ্তাহ বা মাসে আপনার ড্র-ডাউন কত ছিল, তার মানে মত ক্যাপিটালের কত শতাংশ সেই সপ্তাহ বা মাসে লসে গিয়েছিল। আপনি Myfxbook ধরনের সার্ভিসে আপনার অ্যাকাউন্ট যোগ করে সহজেই এ তথ্যগুলো বের করতে পারবেন। প্রতি সপ্তাহ শেষে যখন পর্যালোচনা করবেন, তখনই আপনি বুঝতে পারবেন সে সপ্তাহে আসলে আপনি কিভাবে ট্রেড করেছেন। পর্যালোচনা করার সময়ই আপনি বুঝবেন আসলে কি মার্কেট আপনার বিপরীতে গিয়েছিল, নাকি আপনিই বেশী ঝুঁকি নিয়ে ট্রেড করে লাভ বা লস করেছেন। এভাবে প্রতি মাসের পর্যালোচনা করবেন, দেখবেন আপনি নিজেই নিজের ভুল ধরতে পারছেন। পর্যালোচনা না করলে কোন বিষয়েই আপনি ইম্প্রুভ করতে পারবেন না। মাস শেষে পর্যালোচনা করলে আপনার ভুলগুলো বের হবে, রিস্ক পারসেন্ট আরও বাড়াতে না কমাতে হবে বুঝতে পারবেন, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল সারা মাস আপনি আসলেই কি করলেন, তা আপনি নিজে বুঝতে পারবেন, যা আসলে জরুরী যদি আপনি একজন নিয়মিত লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে চান। মনে রাখবেন, আপনার প্রতিদিন লাভ করার প্রয়োজন নেই। আপনি প্রতি সপ্তাহ বা মাস শেষে কত লাভ করলেন তার হিসেব মেলাবেন। এভাবে বড় টার্গেট সেট করলে আপনার ওপর থেকে প্রেসার কমে আসবে।
বুঝে ট্রেড করাঃ সকল ট্রেডারেরই একটি স্ট্রাটেজি মেনে ট্রেডিং করা উচিত। এই স্ট্রাটেজি মানে এটা নয় যে ইন্টারনেট থেকে কারো স্ট্রাটেজি বা ইন্ডিকেটর ডাউনলোড করতে হবে, বা টাকা দিয়ে কোন বড় ভাইয়ের ট্রেড করার পদ্ধতি কিনতে হবে। আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজি হওয়া উচিত এমন যা আপনি ভালভাবে বোঝেন, এবং সবসময় সেটা মেনে চলে সেই পরিমাণ রিস্ক নিয়েই ট্রেড করবেন। একটি স্ট্রাটেজি ঠিক করার পর সেটা মেনেই ট্রেড করুন। স্ট্রাটেজি থেকে বিচ্যুত হবে না। যদি মনে করেন স্ট্রাটেজি ভালো কাজ করছে না, ট্রেডিং বন্ধ রেখে নতুন স্ট্রাটেজি অনুসরন করার চেষ্টা করুন। হুট করে রিয়েল অ্যাকাউন্টে টেস্ট না করে দীর্ঘ সময় ডেমো করে দেখুন কাজ করে কিনা। নিয়মিত লাভবান ট্রেডার হয়ে উঠতে চাইলে সব বুঝে করতে হবে। প্রতিটি ট্রেডই বুঝে করার চেষ্টা করতে হবে। আন্দাজে সুযোগের সৎব্যবহার করতে গেলে ২-১ বার ভালো লাভ করতে পারবেন ঠিকই, তৃতীয়বার ঠিকই অ্যাকাউন্ট শূন্য হবেই হবে। কিভাবে বুঝে ট্রেড করা যায়, ট্রেডিং চেকলিস্ট ইত্যাদি নিয়ে অনেক লেখা রয়েছে এবং ওয়েবিনার হয়েছে ও হচ্ছে। সেগুলো অনুসরন করলে ভালো আইডিয়া পাওয়া যাবে। এ বছরে আপনার কাজ হবে অনেক কিছু জানা, এবং তার ওপর ভিত্তি করে অল্প একটু বিষয় ভালো করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেরাটি কাজে লাগানো।
মানি ম্যানেজমেন্ট কঠোরভাবে অনুসরন করাঃ নিয়মিত লাভবান ট্রেডার হতে গেলে মানি ম্যানেজমেন্ট শুধু মেনে চললেই চলবে না, কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্যি খুব হাতেগোনা কিছু ট্রেডার এটা মেনে চলতে পারেন। আমিও মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রম করি। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানি ম্যানেজমেন্ট মেনে না চলার মাশুল দিতেই হয়। ফরেক্সে লাভবান ট্রেডার হতে গেলে আপনাকে টিকে থাকতে হবে, আর মানি ম্যানেজমেন্ট ঠিক না থাকলে, আপনি যত বড় মাপের ট্রেডারই হন না কেন, কোন না কোন ভুলে আপনি বিশাল লস করবেনই এবং অ্যাকাউন্ট শূন্য করে ফেলবেন। যদি ভাবেন প্রতি ট্রেডে ২% রিস্ক নেবেন, তাহলে যেন ৫০টি ট্রেড টানা লস করার পরেই অ্যাকাউন্ট জিরো হয়। বেশী রিস্ক নিয়ে ১০ ট্রেডে অ্যাকাউন্ট শূন্য করে ফেললে আপনার পক্ষে লাভবান ট্রেডার হওয়া সম্ভব না। মনে রাখবেন আপনি একদিনের জন্য ট্রেড করতে আসেননি। লোভ কমাতে হবে। মাসে ৫০% লাভের আশা ছাড়তে হবে। বাস্তবসম্মত নিরাপদ লাভের টার্গেট নির্ধারণ করতে হবে। আপনি এটাকে পেশা হিসেবে নিতে চান, তাই দীর্ঘদিন কিভাবে টিকে থেকে লাভ করবেন সেই প্রস্তুতি বা মানসিকতা রাখতে হবে।
মার্কেটে গুজবে কান না দেয়াঃ ফরেক্স কমিউনিটি বা ফেসবুক গ্রুপগুলোতে থেকে আমরা যেমন অনেক সুবিধা পাই, এর অনেক অসুবিধার শিকারও আমরা নিজের অজান্তে হয়ে থাকি। বেশিরভাগ ট্রেডার খুব কনফিউজড থাকে। নিজের অ্যানলাইসিস বা সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা থাকে না। হয়তো আপনি মার্কেটকে একভাবে অ্যানালাইসিস করলেন। কিন্তু কোন ওয়েবসাইট বা ফেসবুকে কারো পোস্ট দেখলেন যে মার্কেট উল্টো যাবে। আপনি নিজের অ্যানালাইসিস ক্ষমতা বাদ দিয়ে আরেকজনের কোথায় বিশাল ট্রেড দিয়ে লাভ বা লস করে বসলেন। এগুলো খুব খারাপ। আবার ফেসবুকে দেখলেন এক ভাইয়ের স্ট্রাটেজি খুব লাভ করছে, নিজের সব বাদ দিয়ে তার কাছ থেকে স্ট্রাটেজি কেনার জন্য পাগল হলেন। এগুলো ত্যাগ করতে হবে। বুদ্ধিমান ট্রেডার যা করে তা হল সে সবার কাছ থেকে সব কথা শোনে। তারপর নিজের বিবেক কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কোনটা তার আসলেই করা উচিত। ধরুন আপনি কোথায় কারো একটি পোস্ট পড়লেন যে আজ ডলার এ ব্যাপক ধস নামতে পারে। সাথে সাথে ডলারের বিপরীত ট্রেড না দিয়ে সে বিষয়ে আরও স্টাডি করুন। অসংখ্য ওয়েবসাইটে ভালো ভালো অ্যানালাইসিস এবং আপডেট পাওয়া যায়। সেগুলো পড়ে ব্যক্তিগতভাবে নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিন। আরেকজনের সিদ্ধান্ত যেন আপনার সিদ্ধান্ত না হয়। লস করলেও নিজের যোগ্যতায় লস করুন।
রিল্যাক্স ভাবে ট্রেড করাঃ ফরেক্স ট্রেড করতে গেলে অনেক চাপ নিয়ে ট্রেড করা যাবে না। ১০০টি চিন্তা মাথায় রেখেও ট্রেড করা যাবে না। ফরেক্স করে বাসা ভাড়া দিতে হবে, ভার্সিটির ফিস দিতে হবে, এ ধরনের চিন্তা মাথায় জেঁকে বসলেই দেখবেন ভুল সিদ্ধান্ত আপনি অটোমেটিকভাবে নিয়ে ফেলবেন। প্রত্যাশা কমান, তবে চেষ্টা করতে থাকুন। প্রতিমাসে আগের মাসের থেকে আরেকটু ভালো করার চেষ্টা করুন। অনেকেই দেখা যায় নিজে খুব ভালো ট্রেড করে, কিন্তু কারো কাছ থেকে ইনভেস্ট নিয়ে নিয়ে ট্রেড করতে গেলে উল্টোপাল্টা ট্রেড করে লস করে ফেলে। কারণ তাদের চাপ নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা কম, তাই তারা চাপে পড়লে ভুল করে ফেলে। আপনি যদি রিল্যাক্স ভাবে ট্রেড করতে পারেন, দেখবেন আপনার সফলতার হার বাড়বে।
বেশী কিছু করতে হবে না। ওপরের বিষয়গুলো আমরা বুদ্ধি করে এই পুরো বছর যদি মেনে চলতে পারি, তবেই বছর শেষে লাভের হাসি হাসা যাবে। এটা সত্যি যে আপনি যতই টেকনিক্যাল-ফান্ডামেন্টাল জানেন না কেন, এ সকল বিষয় মেনে না চললে আপনার টিকে থাকাটাই কঠিন হয়ে যাবে। আবার কম জেনেও, সঠিকভাবে যদি আপনি ম্যানেজ করতে পারেন, ফরেক্স থেকে লাভ বের করা সম্ভব হবে। তাই যেটুকুই জানুন না কেন, এভাবে নিজেকে পরিচালিত করুন। প্রতিদিন আরও জানার চেষ্টা করুন। ৩৬৫ দিনই যদি শিখতে পারেন, তবে অনেক কিছু করা সম্ভব হবে। প্রতিদিনের হিসাব রাখলে বছরটাকে অনেক বড় মনে হবে, মনে হবে অনেক কিছু শিখলাম, অনেক কিছু করলাম। প্রতিটি বিষয়ই এখানে সংক্ষেপ করে লেখা হয়েছে। বিস্তারিত কোন জিজ্ঞাসা থাকে কমেন্টে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার যেকোনো ফরেক্স সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর পাবেন বিডিপিপসে। আশা করছি সকলের জন্য সফল একটি বছর হবে এই ২০১৭, এবং আমরা চেষ্টা করে সকলেই লাভবান ট্রেডারে পরিনত হব।
একজন ফরেক্স ট্রেডারের উদ্দেশ্যে প্রফেশনাল ট্রেডারের পক্ষ থেকে একটি চিঠি
আমি অনেক আনন্দিত আজকে তোমার উদ্দেশ্যে এই চিঠিটি লিখতে পেরে। কারণ ফরেক্স ট্রেডাররা আমার কাছে অনেক কিছু জানতে চাই, যখন মার্কেট তাদের বিপরীতে যায় এবং তারা লসে থাকে। একটি বিষয় মনে রাখা দরকার যখন মার্কেট তোমার ট্রেডগুলোর বিপরীতে যায়, এবং তুমি লস করতে শুরু কর, তখন তুমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা কর যে তিনি যেন মার্কেটকে তোমার সুবিধাজনক দিকে মুভ করাই এবং তুমি লাভ করতে পার। কিন্তু সেই একই সময়ে আরও অনেক ট্রেডার সঠিক ট্রেড করছে এবং তারা লাভেও আছে। তাদের মধ্যে অনেকেই সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিতে থাকে এবং প্রার্থনা করে মার্কেট যেন সেদিকে আরও মুভ করতে থাকে।
তাহলে সৃষ্টিকর্তা কার কথা শুনবে?
সৃষ্টিকর্তা সবকিছুই করে থাকে। সবকিছুরই কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং ব্যবস্থা রয়েছে। ছোট অ্যাটম থেকে শুরু করে বৃহৎ গ্যালাক্সি সবকিছুই কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং ব্যবস্থায় চলছে। সবকিছুই ঠিকভাবে চলছে কারণ তারা নিয়ম মেনে চলে। গ্রহগুলো সৃষ্টিকর্তাকে প্রতিদিন জিজ্ঞেস করে না তারা কোন পথে চলবে। তাদের কক্ষপথ আগেই ঠিক করা আছে, তাই তারা নিজেদের পথে চলছে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে। সৃষ্টিকর্তা যা করাই তাই হয়।
যখন একটি পাথি খাবার সংগ্রহের জন্য বাইরে যাবার প্রস্তুতি নেয় এবং সেই মুহূর্তে বৃষ্টি শুরু হয়, তখন সে সৃষ্টিকর্তার কাছে বৃষ্টি থামানোর জন্য অনুরোধ করে না। কারণ পাখিটি জানে যে প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে বৃষ্টি হবে। সে নিজেকে প্রকৃতির নিয়মের সাথে মানিয়ে নিয়েছে। একটি পাখিকে খুশী করার জন্য প্রকৃতির নিয়ম পাল্টাবে না।
প্রফেশনাল ট্রেডারঃ ফরেক্স মার্কেট এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি একই রকম। তুমি যদি ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে লাভ করতে চাও, তবে তোমাকে ফরেক্স মার্কেটের নিয়ম-কানুন শিখতে হবে। মার্কেট কখনও তোমাকে অনুসরন করবে না, প্রফিট করতে হলে তোমাকেই মার্কেটকে অনুসরন করতে হবে। তুমি যদি কখনও একটি ভুল ট্রেড দাও এবং মার্কেট তোমার বিপরীতে চলে যায়, সৃষ্টিকর্তার কাছে মার্কেটের দিক পরিবর্তনের জন্য প্রার্থনা করনা কারণ সৃষ্টিকর্তা তা শুনবে না। কারণ এটা তোমার ভুল। তোমাকে অবশ্যই সঠিক নিয়ম এবং বিষয়গুলো শিখতে হবে এবং মেনে চলতে হবে।
প্রফেশনাল ট্রেডারঃ তুমি যদি প্রতি ট্রেডে তোমার কতটুকু মানি রিস্ক নেয়া উচিত এই অজ্ঞতার কারণে লস করে অ্যাকাউন্ট জিরো করে ফেলো, তবে সৃষ্টিকর্তাকে দায়ী করোনা এবং বলোনা যে সৃষ্টিকর্তা তোমাকে পছন্দ করেনা, কারণ যেখানে সবাই লাভ করছে, তুমি একাই লস করছো। সৃষ্টিকর্তা কোন শ্রেণীবিভেদ করি না। যারা নিয়ম মেনে চলবে তারা বিজয়ী হবে। আর যারা নিয়মের বিপরীতে চলবে, তারা তার ফল একদিন না একদিন ভোগ করবেই।
প্রফেশনাল ট্রেডারঃ যেদিন মার্কেট তোমার বিপরীতে ছিল। তুমি প্রার্থনা করেছিলে যেন মার্কেট তোমার দিকে ঘুরে যায় এবং তাই হয়েছিল। (এর কারণ এই নয় যে সৃষ্টিকর্তা মার্কেটকে তোমার পছন্দের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছি, সৃষ্টিকর্তার ইশারাই মার্কেট তার নিয়ম মতই মুভ করেছে). তুমি তোমার লস কাটিয়ে উঠেছিলে এবং আবার ভুলে গিয়েছিলে। তুমি ভুলে গিয়েছিলে যে তুমি বারবার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছিলে যেন মার্কেট তোমার পক্ষে যায়। তুমি এটাই প্রতিজ্ঞা করেছিলে যে যদি একবার লস রিকভার হয়ে যায়, তুমি জীবনে আর কখনও এই ভুল করবে না, বেশি রিস্ক নিবে না এবং নিয়ম মেনেই ট্রেড করবে। কিন্তু যখনই তোমার লস রিকভার হয়ে গেল, তুমি আবার ভুলে গেলে, তোমার প্রতিজ্ঞাকে ভুলে গেলে এবং বারবারই সেই একই ভুল করলে। বারবার এরকম করার থেকে, নিয়ম মেনে চলা এবং বিষয়গুলো শিখে নেয়াই তোমার জন্য ভাল ছিল।
প্রফেশনাল ট্রেডারঃ যদিও তুমি সব নিয়ম মেনে চল এবং সব বিষয়গুলো শিখে ফেলো, হয়তো তুমি কয়েক বছর ট্রেড করার অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলবে, তবুও তোমার লস হতে পারে। কিন্তু এটা গ্রহনযোগ্য। তোমাকে বাঁচানোর জন্য স্টপ লস নামের একটি জিনিস রয়েছে। সবকিছুর মধ্যে এটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ফরেক্সে নয়, প্রকৃতিতেও নানা ধরনের স্টপ লস রয়েছে যা কিনা অনেকেরই চোখে পড়ছে না। তুমি যদি তোমার একটি মাত্র ভুলের জন্য তোমার অ্যাকাউন্টের সকল মানি নষ্ট করতে না চাও, তবে তোমাকে স্টপ লস ব্যবহার করতে হবে। স্টপ লসটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হতে হবে এবং তোমাকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে তুমি সঠিক জায়গাতেই স্টপ লস ব্যবহার করছ। প্রাইস স্টপ লসের কাছে চলে আসলে বারবার তা পরিবর্তন করোনা।
প্রফেশনাল ট্রেডারঃ সবশেষে, তুমি যদি ফরেক্স ট্রেডিং বা অন্য কোন ব্যবসা করে প্রফিট করতে সক্ষম হও, তবে তোমার আয় থেকে কিছু অংশ ভাল কাজে এবং গরিবদের কল্যাণে ব্যয় করো। যদিও তোমার ভুলের কারণে মার্কেট যদি তোমার বিপরীতে চলে যায়, সৃষ্টিকর্তা তা তোমার দিকে ঘুরিয়ে দিবেনা, কিন্তু তুমি যদি তোমার আয় থেকে গরিব এবং অসহায় মানুষদের সাহায্য কর, সৃষ্টিকর্তা তোমাকে একজন ভাল ফরেক্স ট্রেডার হতে সাহায্য করবে যে কিনা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানবে এবং প্রয়োজনে যথাসম্ভব নিয়মগুলো মেনে চলবে। যারা সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যায়না, সৃষ্টিকর্তা কখনই তাদের ভুলেনা, এবং সবসময় তাদেরকে সাহায্য করে, যারা সৃষ্টিকর্তার সন্তুস্টির জন্য অন্যদের সাহায্য করে। অন্যদের ভাল করার চেষ্টা করে এবং সৃষ্টিকর্তাও তোমার ভাল করবে। অন্যদের সাহায্য কর, এবং যখন তোমাকে সাহায্য করার মত কেউ থাকবে না, তখন সৃষ্টিকর্তা তোমাকে সাহায্য করার জন্য অবশ্যই থাকবে।
===================================
লেখকঃ তানভীর TM এডিট করেছি আমিঃ দুলাল।
Wednesday, March 29, 2017
একটি সহজ সরল স্ট্রাটেজি
নিয়মিত প্রফিট করতে চান?
তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
১। আপনি Price Action নিয়ে কাজ শুরু করে দিন আজ থেকে।
২। গুরুত্ব পূর্ণ Candle Stick Formaton গুলো কি আপনার মুখস্থ আছে? দেখলে কি সাথে সাথে চিনতে পারেন? আমি নাম গুলো বলে দিচ্ছি বাকিটা গুগলকে জিজ্ঞাসা করুন।
Bullish Engulfing, Bearish Engulfing, Bullish Harami, Bearish Harami, Hammer, Hanging Man, Shooting Star, Dark Cloud Cover, Piercing Pattern, Inverted Hammer, Gravestone Doji, Dragon fly Doji, Long Legged Doji, Morning Star, Evening Star, Three white shoulders, Three Black Crows. Tri star, Harami Cross, Bearish Kicking, Tweezer Top, Tweezers Bottom. এগুলো প্রিন্ট আউট করে একটি বই বানিয়ে দিনে ২-৩ বার পড়ুন প্রতিদিন যতক্ষণ আপনার মুখস্থ না হয়। হয়ে গেলে এবার MT4 ওপেন করে যে কোন Time Fram-এ আপনার যে কারেন্সি পেয়ার পছন্দ সেটাতে Back Test করুন এখন থেকে আগের ৬ মাসের চার্ট দেখুন ও Chandlestick Formation গুলো খুজে বের করুন।
আমি ২৩ টার মত ক্যন্ডেল ফরমেশান এর নাম উল্লেখ করেছি এখানে। আপনার হয়ত সবগুলো পছন্দ নাও হতে পারে আবার হয়ত ২-১ টা খুব পছন্দ হয়ে যাবে। ওকে, তাতেই হবে! বেশি শিখতে গেলে তালগোল পাকাতেই পারে। KISS এর মানে তো আমরা সবাই জানি
Keep It Simple Stupid! কিন্তু যে ২-১ ক্যন্ডেল ফরমেশান আপনি শিখবেন; শিখতে হবে ভালভাবে। যতক্ষণ না পুরোপুরি পান্ডিত্য আর্জন করনে আপনি। ট্রিলিয়ন ডলার এর এই Forex মার্কেট থেকে যদি আপনি তিল পরিমানও নিতে পারেন তাহলে আর আপনাকে পায় কে! তাই পরিশ্রম ও পড়ালেখা একটু করতেই হবে বিকল্প কিছু নাই। ধরে নিলাম আমার দেয়া ২৩ টা ক্যান্ডেলস্টিক এর মধ্য থেকে আপনার Bearish Engulfing Pattern টা পছন্দ হয়েছে। তাহলে চলুন শুরু করি এটা দিয়ে ট্রেড কিভাবে করবেন। একটা কথা বলে রাখি আমরা কিন্তু শুধুমাত্র SELL ORDER নিয়ে কাজ করব।
সেল অর্ডারঃ
১। দেখে নিন মার্কেট UP Trend-এ আছে কিনা?
২। Bearish Candlestick Formation হয়েছে কিনা?
৩। টেক প্রফিট= ৪০ পিপ্স।
৪। স্টপ লস =২০ পিপ্স।
৫। চার্ট ১ ঘন্টার হলে ভাল হয়।
শর্তঃ ১। Take Profit হিট করার আগে ট্রেড Closed করা যাবে না।
২। আপনি যত লটে-ই ট্রেড করেন না কেন, একটানা ২০ ট্রেড লস করলেও(জানি হয়ত হবেনা) যেন আপনার ব্যালেন্স ফাঁকা না হয়। তারপরও আপনি যেন আরও ২০টা ট্রেড করতে পারনে।
চলুন দেখি কি হতে পারে...
প্রতি মাসে যদি ৩টি মেজর কারেন্সি পেয়ার(EUR/USD,GBP/USD,USD/JPY) ১ ঘন্টার চার্ট নিয়ে কাজ করেন তাহলে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৪০ টা Bearish Engulfing Formation খুঁজে পাবেন।
এবার যদি ৪০ টা ট্রেড এর ৫০% ট্রেড লস হয় তাহলে লস হবে ২০ টা ট্রেড-এ। আর ৫০% ট্রেড প্রফিট হয় তাহলে প্রফিট হবে ২০ টা ট্রেডে।
২০ x ২০= -৪০০ পিপ্স।
২০ x ৪০= +৮০০ পিপ্স।
নেট লাভ=+৪০০ পিপ্স।
এক মাস ডেমোতে ট্রাই করে দেখুন কি হয়। চাইলে আমাকেও জানাতে পারেন।আমিও শিখছি, শিখতে চাই আপনার কাছ থেকেও। আরিফ আহমেদ (WildCat), ০১৯৪৫৬০৬৮৬৫
বাংলা লিখা একটু কঠিন মনে হয়, ভুল হলে মাফ করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
খুবই কার্যকরী একটি নিউজ ট্রেড স্ত্রেটিজি
স্ত্রেটিজিঃ হাই ইমপ্যাক্ট নিউজ রিলিজ এর ২ মিনিট আগে কারেন্ট মার্কেট প্রাইস থেকে ১৫ পিপ্স উপরে বাই স্টপ আর ১০ পিপ্স নীচে সেল স্টপ (কন্সিডার ৫ পিপ্স স্প্রেড নিউজ এর সময়)। দুটাতেই ১০/ ১২ পিপ এস এল। কোন টিতে টি পি থাকবে না কিন্তু, ট্রায়াল স্টপ ২/৩ পিপ্স (২০/৩০পয়েন্ট) থেকে ১০/১২ পিপ্স ও পরে এটাকে আরও বারিয়ে ৫০ পিপ্স পর্যন্ত করতে পারেন ট্রেনড বুঝে। ট্রিগার করার আগ পর্যন্ত সবসময় পেনডিং এন্ট্রি গুলো ড্রেগিং করে পজিসন টা নিরাপদ দুরত্তে রাখার চেষ্টা করবেন যেন শুধু মাত্র স্পাইক এই ট্রিগার হয়। যদি বাই ট্রিগার করে তাহলে সেল পেনডিং টা ক্লজ করে দিবেন। আর যদি সেল ট্রিগার করে তাহলে বাই পেনডিং টা ক্লজ করে দিবেন। অর্থাৎ প্রথম স্পাইক টাই ধরবেন । আর যখন প্রফিট এ ট্রায়াল স্টপ ধরবে, সাথে সাথে ট্রায়াল স্টপ অফ করে দিয়ে অথবা পরিবর্তন করে ইচ্ছা মত টার্গেট সেট করতে পারেন। যদি সেই সুযোগ পান, তাহলে ১০/১২ পিপ্স এস এল এর বিপরীতে ১০০/১৫০ এমন কি ২০০ পিপ্স পর্যন্ত পেয়ে যেতে পারেন । ০.২০ লট ব্যাবহার করলে ২০/২৫ $ এর রিস্ক নিয়ে আপনি যদি ১০০ পিপ্স ধরতে পারেন তবে ২০০ $ আর যদি ট্রেনড পেয়ে যান, ২০০ পিপ্স ধরতে পারলে তো কোন কথায় নাই এক ট্রেড এই ৪০০/৫০০ $ । এমন সুযোগ মাসে দু এক বার পাওয়া যায়।
ট্রায়াল স্টপঃ আপনি যদি মনে করেন লাভ কম হলেও চলবে কিন্তু লস এর সম্ভাবনা যেন খুব কম থাকে, তাহলে ট্রায়াল স্টপ ২/৩ পিপ্স(২০/৩০পয়েন্ট)দিবেন, এটাতে এভারেজ ১০/২০ পিপ্স পেতে পারেন(নির্ভর করে নিউজ এর ইমপ্যাক্ট এর উপর)। আর এই সিস্টেম এ যদি আপনি ১০/১২ পিপ্স লস এর রিস্ক নিতে পারেন তাহলে ট্রেনড ধরার সুযোগ পেতে ট্রায়াল স্টপ ১০/১২ পিপ্স দিতে পারেন, এটাতে ১০০/২০০ পিপ্স পর্যন্ত পেতে পারেন(নির্ভর করে নিউজ এর ইমপ্যাক্ট ও ট্রেনড এর উপর)।
রিস্ক মেনেজমেনটঃ স্লিপেজ একটা ঝুকি এখানে। বড় লট ব্যাবহার করলে তাই বড় ধরনের ঝুকি থাকে।
মানি মেনেজমেনটঃ ১০০০ ইউ এস ডি বেলেন্স এ ০.১০ থেকে ০.২০ লট ব্যাবহার করতে পারেন।
সতর্কতাঃ প্রথমে ডেমো তে এপ্লাই করে দেখেন, সম্পূর্ণ টা বুঝে রিয়েল এ করবেন।
ব্রকারঃ এক্সিকিউসন টাইপ: মার্কেট এক্সিকিউসন অবশ্যই। এই ট্রেড করার জন্য রিয়েল এন ডি ডি / এস টি পি প্লাটফর্ম (বোনাস ছাড়া সারভার ) প্রয়োজন ।
পরামর্শঃ আপনি ৬০ থেকে ১০০ কি মি স্পিড এ গাড়ী চালাতে পারেন, এই সিস্টেম এর জন্য আপনাকে আগে কমপক্ষে ৩০০ কি মি স্পিড এ গাড়ী চালাতে শিখতে হবে যদি এই রেস এ আপনি জিততে চান। রেস এর সময় সবাই কিন্তু খুব স্পিড এ থাকবে , আপনার সামনে, পিছনে, ডানে, বামে সবাই খুব স্পিড এ চলবে। সুতরাং, খুব খেয়াল কারন সামনে শেয়াল পিছনে দেয়াল (লল)
বিঃ দ্রঃ যদি না বুঝে কোন লস করেন এর জন্য আপনি ই দায়ী থাকবেন, অন্য কেও (আমি) নয়।
যোগাযোগঃ যে কোন গঠনমুলক সমালোচনা ও পরামর্শের জন্য ফোনঃ 01611250871
facebook: https://www.facebook.com/hirakibul ; email: rokibfx@gmail.com ; skype: rkb_bd
Thursday, March 23, 2017
রিস্ক-রেওআর্ড এর ক্ষমতা
আপনি কি জানেন একজন সফল কারেন্সি ট্রেডার হতে হলে আপনাকে সঠিক ভাবে জানতে হবে রিস্ক-রেওআর্ড এর ব্যবহার। আরো জানতে হবে এর ক্ষমতা সমপর্কে। হতে পারে আপনি খুব ভাল স্ট্রাটেজি ফলো করেন কিন্তু রিস্ক-রেওআর্ড সঠিক ভাবে ফলো না করার কারনে আশানুরুপ লাভ করতে পারছেন না। আমি এখানে একটি সহজ উদাহরন এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আশাকরি খুব সহজে বুঝতে পারবেন যারা নিউবি/নতুন।ধরে নিলাম কোন ভাবেই প্রফিট করতে পারছেন না। আপনি ট্রেডে Entry নিলেই স্ট্প লস হিট করে। আপনি Fade UP !! ভাবছেন এবার সময় এসেছে Give UP !! করার। থামুন।
রিস্ক-রেওআর্ড এর ক্ষমতাটা তো দেখুন একবার তারপর ভাবুন।
আপনাকে কোন স্ট্রেটেজি, সিগনাল, ইন্ডিকেটর, একসপার্ট এডভাইজর ফলো করার দরকার নাই। আপনি করবেন তা, আপনার মন বলবে যা। জি হ্যাঁ , MT4 ওপেন করুন। পছন্দের কারেন্সি পেয়ার ও টাইমফ্রেম সিলেক্ট করুন। চার্ট খুলেই দেখলেন আরে বাহ! এতো সেল! মার্কেট তো নিচে যাবে! আর দেরি না করে সাথে সাথে সেল করে দিন। কিন্তু শর্ত হলো আপনাকে ১:২ রিস্ক-রেওআর্ড রেসিও মেনে চলতে হবে কঠোর ভাবে অর্থাৎ Stop Loss যদি হয় ৩০ পিপ্স তবে Take Profit হবে ৬০ পিপ্স, ওকে? একটু এদিক সেদিক করা যাবে না।

এভাবে ২০ টি ট্রেডে অপেন করে Stop Loss ও Take Profit সেট করে দিয়ে MT4 বন্ধ করে দিয়ে অপেক্ষা করুন সবগুলো ট্রেড ক্লোজড হওয়া পর্যন্ত।
দেখবেন গড়ে আপনার প্রফিট-এই থাকবে। কষ্ট করে লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবদ।
ভাল থাকবেন সবাই।
জানতে বা জানাতে, আমি আরিফ-০১৯৪৫৬০৬৮৬৫
অত্যন্ত সহজ কিন্ত খুব কার্যকরী একটা স্ট্রাটেজীঃ কম্পিউটার বা মোবাইল সকল ডিভাইসেই ব্যবহার করতে পারবেন!
আমাদের মধ্যে যারা নিয়মিত ফরেক্স করছি, বা যারা নতুন করে হলেও ফরেক্স দিয়ে নিজের লাইফের জন্য কিছু করার চেষ্ঠা করছি, তাদের সবারই নুন্যতম একবারের জন্য হলেও আফসোস করতে দেখা গেছে এই কারনে যে তারা তাদের স্ট্রাটেজীতে ব্যবহৃত টুলসগুলো মোবাইল ডিভাইসে সেট করতে পারছেন না। যার কারনে অনেক ট্রেড মিস হয়ে যায়। পিসি বা ল্যাপটপ তো সকল জায়গায় সব সময় সঙ্গে রাখা বা বের করা সম্ভব হয় না। যতটা সহজেই ব্যবহার করা যায় মোবাইল। এর মুল কারন হল, কাস্টম কোন টুলস, ইন্ডিকেটর বা টেমপ্লেট মোবাইল ডিভাইসে ইনপুট দেওয়া যায় না। ডিফল্ট টুলস যেগুলো থাকে, শুধুমাত্র সেগুলো দিয়ে কিছু করার থাকলে করা যায়। নাহলে আক্ষেপ ছাড়া কিছুই করা যায় না।আজ আমি এমন একটা স্ট্রাটেজী নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি, যা আপনার ট্রেডিং প্লাটফর্মের এই ডিফল্ট টুলস দিয়েই সাজানো হয়েছে। সুতরাং আপনি কম্পিউটার বা এন্ড্রয়েড ডিভাইস, যেটাই ব্যবহার করে থাকেন না কেন, সহজেই এই স্ট্রাটেজী দিয়ে ফরেক্স মার্কেট সঠিকভাবে এনালাইসিস করতে পারবেন। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাকঃ
যা যা লাগবেঃ
SMA 10
SMA 20
SMA 200
কেন মুভিং এভারেজঃ
দুইটি প্রধান কারনে মুভিং এভারেজ ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকরী। কারন দুটো হলঃ
মুভিং এভারেজ মার্কেটের ট্রেন্ড খুজে পেতে সাহায্য করে।
ট্রেন্ড চেঞ্জ হবার পয়েন্ট খুজে পেতে সাহায্য করে।
ট্রেন্ড চেঞ্জিং পয়েন্ট যেভাবে বের করবেনঃ
যখন দেখবেন SMA 10 নিচে থেকে SMA 20 কে উপরের দিকে ক্রস করবে, তখন আপনি বুঝবেন ট্রেন্ড চেঞ্জ হয়ে আপট্রেন্ড হতে যাচ্ছে।
আবার যখন দেখবেন SMA 10 উপর থেকে SMA 20 কে নিচের দিকে ক্রস করবে, তখন আপনি বুঝবেন ট্রেন্ড চেঞ্জ চেঞ্জ হয়ে ডাউন ট্রেন্ড হতে যাচ্ছে।
মুল স্ট্রাটেজীঃ
এই স্ট্রাটেজী H4, D1 টাইমফ্রেমে অত্যন্ত ভালো কাজ করে। যদিও অন্যান্য টাইমফ্রেমেও কাজ করে, তবে সাকসেস রেশিও বেশি হয়না। তাই H4, D1 একদম পারফেক্ট।
প্রথমতঃ বাই ট্রেডের ক্ষেত্রে, যখন দেখবেন SMA 10 নিচে থেকে SMA 20 কে উপরের দিকে ক্রস করছে, এবং ক্রস করার পয়েন্ট যে বাই ক্যান্ডেল বা আপ ক্যান্ডেল তৈরী হচ্ছে, আপনি সেই আপ ক্যান্ডেল শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
ক্যান্ডেল শেষ হবার পর পর, যে প্রাইসে ক্যান্ডেল ক্লোজ হল তার থেকে ৫ পিপ্স নিচে একটা বাই লিমিট পেন্ডিং অর্ডার দিয়ে রাখুন।
স্টপ লস দিন মুভিং এভারেজের করস হওয়া পয়েন্টের ক্যান্ডেলের শুরুর প্রাইসের ৫ পিপ্স নিচে।
আর টেক প্রফিট দিন স্টপ লসের ২ গুনিতক। অর্থ্যাত, স্টপ লস ৫০ পিপ্স হলে টেক প্রফিট হবে ১০০ পিপ্স।
এবার সেল ট্রেডের ক্ষেত্রে, যখন দেখবেন SMA 10 উপর থেকে SMA 20 কে নিচের দিকে ক্রস করছে, এবং ক্রস করার পয়েন্ট যে সেল ক্যান্ডেল বা ডাউন ক্যান্ডেল তৈরী হচ্ছে, আপনি সেই ডাউন ক্যান্ডেল শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
ক্যান্ডেল শেষ হবার পর পর, যে প্রাইসে ক্যান্ডেল ক্লোজ হল তার থেকে ৫ পিপ্স উপরে একটা সেল লিমিট পেন্ডিং অর্ডার দিয়ে রাখুন।
স্টপ লস দিন মুভিং এভারেজের ক্রস হওয়া পয়েন্টের ক্যান্ডেলের শুরুর প্রাইসের ৫ পিপ্স উপরে।
আর টেক প্রফিট দিন স্টপ লসের ২ গুনিতক। অর্থ্যাত, স্টপ লস ৫০ পিপ্স হলে টেক প্রফিট হবে ১০০ পিপ্স।
SMA 200 এর ব্যবহার এখানেঃ
এই স্ট্রাটেজী তে SMA 200 এর ব্যবহার শুধুমাত্র ট্রেডের প্রকৃতি বুঝতে ব্যবহৃত হয়। তা হলঃ
যখন SMA 10 & 20, SMA 200 এর উপরে থাকবে, তখন ট্রেড লং টার্মের জন্যও অপেন করতে পারবেন। অর্থ্যাত টেক প্রফিট স্টপ লসের ৩ গুনিতকও ব্যবহার করতে পারেন
আবার যখন SMA 10 & 20, SMA 200 এর নিচে থাকবে, তখন শর্ট টার্মের জন্য ট্রেড অপেন করতে পারবেন। অর্থ্যাত স্টপ লস আর টেক প্রফিট সমান সমান হবে।
অফটপিকঃ
আমার পরিচিত সকল ফরেক্স ট্রেডারদের নিয়ে তৈরী করা আমার নিজস্ব একটা কমিউনিটি আছে, যেখানে আমি আমার এনালাইসিস, ট্রেড এন্ট্রি সিগনাল প্রোভাইড করে থাকি। আপনি চাইলে আমার ট্রেডার কমিউনিটিতে যোগ দিতে পারেন। (ছোট্ট একটা শর্ত প্রযোজ্য!!!) তবে এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে জানতে আগ্রহী হলে সরাসরি আমায় নক করুন।
ফেসবুকে আমিঃ https://www.facebook.com/otonu.shagor
স্কাইপীতে আমিঃ otonu.shagor
আমার নিজস্ব এনালাইটিক্যাল পারফর্মার পেজঃ https://www.facebook.com/bestforexxm
সবাই ভালো থাকুন, সবাই ভালো ট্রেড করুন।
আর পরিশেষে আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ্ হাফেয।
Harmonic - ABCD ফরেক্স প্রাইস প্যাটার্ন ট্রেডিং।
টেকনিকেল এনালাইসিস টুলস হিসেবে আপনারা অনেক অনেক চার্ট প্যাটার্নে ট্রেড করেছেন ইতিমধ্যে আশা করি, তবে সবগুলো প্যাটার্নে সব সময় ট্রেড করা এবং সব গুলো প্যাটার্ন মনে রেখে সব সময় ট্রেড করাটা ও দুস্কর। কিছু প্যাটার্ন আছে জেগুলো ফরেক্স মার্কেটে খুব প্রচলিত এবং জনপ্রিয় যা প্রায় সময় আপনি পেয়ে থাকবেন, আর যদি ঐসব প্যাটার্ন গুলো ভালো ভাবে আয়ত্তে রেখে ট্রেড করতে পারেন তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকুন যে মার্কেট যতই মন্থর থাকুক না কেন আপনি ঠিকই ট্রেড চালিয়ে যেতে পারবেন। হ্যাঁ আজকে আলোচনা করব তেমনি কিছু প্যাটার্ন এর উপর যেগুলোর আলোচনায় আপনার ট্রেড হবে আরো উন্নত এবং সাফল্যমণ্ডিত।
আজকে যে প্রকার চার্ট গুলো নিয়ে আলোচনা করব সেগুলো মুলত আপনাকে সাহায্য করবে ট্রেন্ড এর স্থায়িত্ব এবং ট্রেন্ড রিট্রেসমেন্ট বুঝে ট্রেড করতে। তবে এই প্যাটার্নটিতে ট্রেড করতে আপনাকে ফিবানাসি টুলস সম্পর্কে জানতে হবে।
ABCD – Pattern
এই প্যাটার্নটি আসলে ABC’র মতই সহজ তাই এর নাম করন টা এমনি, বেশি কথা না বলে আগে চলুন ছবিটি দেখি,
আসুন এইবার দেখি কিভাবে কাজ করে, উপরের ছবি অনুসারে দেখুন এবং মনে রাখবেন, লং এবং শর্ট উভয় ট্রেডের জন্য AB & CD হল LEGs এবং BC হল কারেকশন বা রিট্রেসমেন্ট; এখন আপনি যদি LEG – AB হিসেবে ফিবনাসি টুলস ব্যাবহার করেন তাহলে রিট্রেসমেন্ট প্রথম লেভেল হিসেবে আপনার প্রথম রিট্রেসমেন্ট BC হবে লেভেল ০.৬১৮; দ্বিতীয় রিট্রেসমেন্ট LEG – CD এর জন্য হবে ১.২৭২; এভাবে; এটা খুবই সিম্পল একটি ফর্মুলা ফিবনাসি রিট্রেসমেন্ট লেভেল হিসেবে আপনি এই হিসেবেটা করে ট্রেড করতে পারবেন।
ABCD – এই সিম্পল প্যাটার্নটিকে যদি আরো সুন্দর এবং স্ট্রিক করতে চান তাহলে নিচের রুলস গুলো মেনে চলুন;
AB লাইন এর দৈর্ঘ্য এবং CD লাইন এর দৈর্ঘ্য একই হবে।
লাইন A থেকে B প্রাইস তৈরিতে যেটূকু সময় লেগেছে লাইন CD এর জন্য সময়টূকু সমান হতে হবে।
প্যাটার্নটিতে ট্রেডিং খুব সহজ কিন্তু যদি ভালো প্র্যাকটিসের মাধ্যমে ব্যাবহার শুরু করেন তাহলে ট্রেডকে আগের চেয়ে অনেক নিরাপদ করে তুলতে পারবেন।
ফরেক্স প্রাইস অ্যাকশন ট্রেডিং - [দ্বিতীয় অংশ]
প্রথম পর্বে আলোচনা করেছিলাম ক্যান্ডেলস্টিক প্রাইস ট্রেডিং অ্যাকশন সম্পর্কে। আসলে একটি সফল প্রাইস অ্যাকশন বোঝার জন্য সম্পূর্ণ চার্টটি গুরুত্তপুর্নতার সাথে দেখতে হয় প্রতিটি বিষয় অতি সুক্ষতার সাথে দেখে যত বেশি প্রাইস মার্ক করা যায় আপনি ততই প্রাইস গতিবিধি ভালো বুঝবেন। ফরেক্স প্রাইস অ্যাকশনের একটি গুরুত্তপুর্ন বিষয় হল ট্রেন্ড ট্রেডিং প্রাইস অ্যাকশন।
স্বাভাবিকভাবে আমারা সব ট্রেডাররাই ট্রেন্ড কম-বেশি বুঝি এবং ট্রেড করার সময় সবার প্রথম নজর থাকে বর্তমান ট্রেন্ডটির দিকে। আমার সবাই একটি কমন টেল জানি, “Trend is your friend until it bends ” আসলেই সত্যি এবং সফল ট্রেড গুলোর পেছনের গল্প হল সঠিক ট্রেন্ড ধরে ট্রেড করা। কিন্তু সমস্যা হল সব সময় আমরা সঠিক ট্রেন্ডটি ধরতে পারি না। বেশিরভাগ সময় এমন হয় যে মার্কেট রেঞ্জ বাউন্ড করে মুভ করে ফলে ধরা যায় না বা বুঝতে অনেক অসুবিধা হয়ে যায় যে বর্তমান ট্রেন্ডটি আসলে কি।
কিন্তু ট্রেন্ড প্রাইস অ্যাকশন বিষয়টি যদি আপনার পরিস্কার থাকে তাহলে মার্কেট যতই রেঞ্জ বাউন্ড করুক না কেন আপনি ঠিকই ধরতে পারবেন যে মার্কেট আসলে কোন ট্রেন্ডি। তাই এখন আমরা বুঝতে চেষ্টা করব প্রাইস অ্যাকশন ট্রেন্ড ট্রেডিং। প্রাইস সাথে ট্রেন্ড বুঝতে হলে প্রথমত আপনার চার্টটিকে পরিস্কার করে নিন। তারপর একটি উর্ধগামি বা নিম্নগামী ,আপ ট্রেন্ড বা ডাউন ট্রেন্ড চার্ট দেখতে পাবেন।
আর এই বিষয়টি ভালো ভাবে বোঝার জন্য সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স একটি গুরুত্তপুর্ন ভুমিকা রাখবে মুলত এই সাপোর্ট অ্যান্ড রেসিস্টেন্স আর মাধ্যমেই আপনি প্রাইস এর আসল অ্যাকশন মার্ক করবেন এবং সেই মত ট্রেড স্টপ বা প্রফিট সেট পয়েন্ট তৈরি করবেন।
এই রকম একটি আপট্রেন্ড চার্টকে আরো নিখুত ভাবে ভাংলে পেয়ে যাবেন সাপোর্ট ও রেসিসটেন্স সহ আপনার ট্রেড টার্গেটেড এরিয়া এবং ঠিক এই পজিশনে ড্র করে ফেলুন ৩টি করে সাপোর্ট ও রেসিসটেন্স ব্লক যার প্রতিটি পয়েন্ট এক এক করে নির্দেশ দিবে ট্রেন্ড কোন দিকে ছুটছে।
ফরেক্স প্রাইস অ্যাকশন ট্রেডিং, [প্রথম অংশ]
ফরেক্স প্রাইস অ্যাকশন হল এমন এক ধরনের ট্রেডিং স্কিল বা যোগ্যতা যেখানে আপনি মার্কেটের যেকোন চার্টের প্রাইস বুঝতে পারবেন এবং সেই অনুসারে যেকোন টাইম ফ্রেমে ট্রেড করতে পারবেন কোন রকম ইন্ডিকেটর ব্যাবহার ছাড়ায়।
প্রাইস অ্যাকশন হল একটি স্মার্ট ট্রেডিং পদ্ধতি যেখানে ট্রেডার চার্ট দেখে বুঝতে পারে অনুধাবন করতে পারে বর্তমান মার্কেট অবস্থা কি এবং কোন সময়ে কোন পেয়ারটির অবস্থা কি হতে পারে ইত্যাদি। আসলে প্রাইস অ্যাকশন একটা নাম মাত্র আপনি চার্ট দেখে কতটুকু বুঝতে পারছেন কিংবা আরেকজন ট্রেডার ঠিক একই চার্ট দেখে কি অনুধাবন করল এবং সেই মোতাবেক কতটুকু সঠিক ট্রেড করতে পারলো তাই বোঝায়।
কিভাবে আপনি প্রফিট করতে প্রাইস অ্যাকশন ব্যাবহার করবেনঃ
প্রাইস অ্যাকশন বুঝতে আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে মুলত আপনি এই বিষয়গুলোর মাধ্যমেই প্রাইস অ্যাকশন বুঝবেন।
বর্তমান ট্রেন্ডটি কি?
ট্রেন্ডটি কি কোন রেঞ্জ ব্লকে আছে কিনা?
সাপোর্ট বা রেজিসটেন্স এর কতটুকু কাছাকাছি বর্তমান প্রাইসটি অবস্থান করছে?
মার্কেট কি কোন রিভার্স ট্রেডিং এর ফর্ম তৈরি করেছে কিনা?
উপরের চারটি পয়েন্টের সুন্দর সংযোজনই হল প্রাইস অ্যাকশন বের করার একটি সহজ পদ্ধতি।
কোন ধরনের প্রাইস আকশনে ট্রেডাররা ট্রেড করতে পছন্দ করে?
প্রাইস অ্যাকশন ট্রেডিং এ আপনি যেকোন ফর্মুলায় ট্রেড ওপেন করতে পারেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোন পদ্ধতিতে। তবে বেশিরভাগ ট্রেডার ক্যান্ডেলস্টিক কী ব্যাবহার করে থাকে প্রাইস অ্যাকশনে ট্রেড করার জন্য। তারমধ্যে জনপ্রিয় একটি কী হল ‘পিন বার ক্যান্ডেল’ ।
পিন বারঃ
হল একটি রিভার্সেল ট্রেডিং সিগনাল যা যেকোন টাইম ফ্রেমে পেতে পারেন। পিনবার হল একটি স্ট্রং প্রাইস রিভার্সেল সিগনাল যা একটি ক্যান্ডেলের সমন্বয়ে ঘটিত। পিনবার উভয় বায় এবং সেল ট্রেডে ঢুকতে একটি শক্তিশালী পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে। মুলত এটি একটি ট্রেন্ড চেঞ্জ সিগনাল।
ওপেন বা ক্লোজ হবে পূর্ববর্তী ক্যান্ডেল এর মধ্যে।
ক্যান্ডেল বডি’র তুলনায় বার হতে অন্তত তিনগুন বেশি লম্বা।
আশপাশের ক্যান্ডেলের চেয়ে এই ক্যন্ডেলের বার অনেক বড় থাকবে।
সবগুলো পিন বারের সাইজ কখনো একই হবে না, চরিত্র অনুসারে পিন বার নিশ্চিত হয়ে ট্রেড করতে পারেন। বিশেষ করে ট্রেন্ড চেঞ্জ হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টাকে নিশ্চিত করতে পিন বারের মত শক্তিশালী প্রাইস অ্যাকশন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে পারেন। এটি মুলত সাপোর্ট বা রেজিসটেন্স এর একটি পূর্ণ রুপ এবং ট্রেডে ঢুকার জন্য একটি ভালো প্রটোকল। উপরের চিত্রে দীর্ঘ উইক এ গড়ে উঠা স্পষ্ট একটি সেল রিভার্সেল পিন বার ট্রেন্ড চেঞ্জ নির্দেশ করছে , এইভাবে বায় রিভার্সেল পিন আক্রঅ্যাকশনে সুন্দর সেল ট্রেড করতে পারেন।
আগামি পর্বে ট্রেন্ড অ্যাকশন ট্রেডিং নিয়ে আলোচনা করব। ধন্যবাদ
আমার দীর্ঘ বছরের ট্রেডিং অভিজ্ঞতাই সেরা ব্রোকার।
পোষ্টের শুরুতেই একটা কথা বলি। আমি কোন ব্রোকার এর দালাল না। আবার অনেকে মনে করতে পারে যে রিফারাল বাড়ানোর জন্য পোষ্টটা দিছি। তাই আমি আমার কোন রিফারাল লিংক ও দিলাম না।
আমার অভিজ্ঞতাই সেরা ব্রোকার:
1. exness.com
2. xm.com
এদের সুবিধাগুলা ওয়েবসাইটে আছে। আর এদের ওয়েবসাইটে যা আছে তার সামান্য ও ওরা অমান্য করবে না। তবুও আমি কিছু সুবিধার কথা উল্লেখ করছি:
১. কোন ডিপোজিট আর উইথড্রাল ফি নাই। টাকা তোলার সময় এক সেন্ট ও কাটবে না।
২.দুইটাতেই খুব দ্রুত ওইথড্রা করা যায়।তবে xm এর চেয়ে exness এ অনেক দ্রুত।
৩. দুইটাতেই অনেক কম স্প্রেড আর কমিশন।
৪. ফান্ড সিকিউরিটি আছে। আপনার টাকা মার যাবে না।
৫.সাপোর্ট খুব ই ভাল। তবে xm এর সাপোর্ট exness এর বেশি ভাল। xm এ আমার আকাউন্ট মানেজার আসলাম ভাই মাঝে মাঝে সবাই কে ফোন তো দেয় ই, আবার কোন সমস্যায় পড়লে সাথে সাথে তাকে পাওয়া যায়।
৬. দুইটাতেই ট্রেড এক্সিকিউশন টাইম খুব ই কম।খুব দ্রুত ট্রেড ওপেন ক্লোজ করা যায়। তবে xm এক্ষেত্রে বেশি ভাল।
৭. দুইটাতেই ফ্রি vps পাওয়া যায়। তবে exness এ এক্ষেত্রে সুবিধা বেশি। খুব অল্প বালাঞ্চ এই আপনি vps পেতে পারেন।
৮.xm এ ১৫% ডিপোজিট বোনাস আছে। exmess এ কিছুদিন আগেও বোনাস চালু ছিল। কিন্তু এখন বর্তমানে কোন বোনাস চালু নেই।তবে আশা করি খুব তাড়াতাড়িই তারা বোনাস চালু করবে।
যাই হোক মূল কথা হল, আপনি চোখ বন্ধ করে উপরের যেকোন একটা ব্রোকারে ডিপোজিট করতে পারেন। আমি xm এ আছি প্রায় ৫ বছর। আর exness এ আছি প্রায় দুই বছর। এর ভিতর কোনটাই খারাপ কিছু পাইনি।
Forex সম্পর্কে কারোর কোন হেল্প লাগলে আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিতে পারেন।
https://m.facebook.com/Rafsunjanyrana
আমার অভিজ্ঞতাই সেরা ব্রোকার:
1. exness.com
2. xm.com
এদের সুবিধাগুলা ওয়েবসাইটে আছে। আর এদের ওয়েবসাইটে যা আছে তার সামান্য ও ওরা অমান্য করবে না। তবুও আমি কিছু সুবিধার কথা উল্লেখ করছি:
১. কোন ডিপোজিট আর উইথড্রাল ফি নাই। টাকা তোলার সময় এক সেন্ট ও কাটবে না।
২.দুইটাতেই খুব দ্রুত ওইথড্রা করা যায়।তবে xm এর চেয়ে exness এ অনেক দ্রুত।
৩. দুইটাতেই অনেক কম স্প্রেড আর কমিশন।
৪. ফান্ড সিকিউরিটি আছে। আপনার টাকা মার যাবে না।
৫.সাপোর্ট খুব ই ভাল। তবে xm এর সাপোর্ট exness এর বেশি ভাল। xm এ আমার আকাউন্ট মানেজার আসলাম ভাই মাঝে মাঝে সবাই কে ফোন তো দেয় ই, আবার কোন সমস্যায় পড়লে সাথে সাথে তাকে পাওয়া যায়।
৬. দুইটাতেই ট্রেড এক্সিকিউশন টাইম খুব ই কম।খুব দ্রুত ট্রেড ওপেন ক্লোজ করা যায়। তবে xm এক্ষেত্রে বেশি ভাল।
৭. দুইটাতেই ফ্রি vps পাওয়া যায়। তবে exness এ এক্ষেত্রে সুবিধা বেশি। খুব অল্প বালাঞ্চ এই আপনি vps পেতে পারেন।
৮.xm এ ১৫% ডিপোজিট বোনাস আছে। exmess এ কিছুদিন আগেও বোনাস চালু ছিল। কিন্তু এখন বর্তমানে কোন বোনাস চালু নেই।তবে আশা করি খুব তাড়াতাড়িই তারা বোনাস চালু করবে।
যাই হোক মূল কথা হল, আপনি চোখ বন্ধ করে উপরের যেকোন একটা ব্রোকারে ডিপোজিট করতে পারেন। আমি xm এ আছি প্রায় ৫ বছর। আর exness এ আছি প্রায় দুই বছর। এর ভিতর কোনটাই খারাপ কিছু পাইনি।
Forex সম্পর্কে কারোর কোন হেল্প লাগলে আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিতে পারেন।
https://m.facebook.com/Rafsunjanyrana
হারামি প্যাটার্ন !!
জী, হাঁ ভাইসব, চলুন আজ এই হারামি কে নিয়ে একটু আলোচনা করি। যারা নতুন ও প্রাইচ একশান শিখতে চান তারা পড়তে পারেন। আর যারা অভিজ্ঞ তাদের কথা বাদ তারা গুরু মানুষ আমাদের মত এত চ্যাঁচামেচি করেন না। চুপচাপ থাকতেই পছন্দ করেন।
চলুন আগে জেনে নিই Harami শব্দের অর্থ। এটা একটা জাপানি শব্দ যার অর্থ গর্ভবতী।
২টা ক্যান্ডেলস্টিক নিয়ে এটা গঠিত হয়। দেখতে অনেকটা গর্ভবতী মহিলার মত তাই এমন নাম দিয়েছেন জাপানি চাউল ব্যাবসায়িরা।
আমরা যখন ট্রেড করতে যাব তখন দুই ধরনের হারামি দেখতে পাব। একটা হলো বুলিস হারামি (Bullish Harami) আর একটা হলো বেয়ারিস হারামি (Bearish Harami)। সংযুক্ত ইমেজটি দেখলে বুঝতে সুবিধা হবে।
এই ২টা ফরমেশান নিয়ে ট্রেড করবেন কিভাবে?
১। প্রথমে এদের খুঁজে বের করুন।
২। পেয়ে গেলে দেখুন বুলিস হারামি না বেয়ারিশ হারামি।
৩। বুলিস হারামি হলে বাই, বেয়ারিশ হারামি হলে সেল।
৪। কিন্তু বুলিস হারামি ডাউন ট্রেন্ড-এর পর হতে হবে আর বেয়ারিশ হারামি আপ ট্রেন্ড এর পর হতে হবে।
৫। টেক প্রফিট-বুলিস হারামির জন্য স্টপ লস এর ২ গুন। স্টপ লস-বেয়ারিশ ক্যান্ডেল এর ৪-৫ পিপ্স নিচে। ইমেজ দেখুন।
৬। টেক প্রফিট-বেয়ারিশ হারামির জন্য স্টপ লস এর ২ গুন। স্টপ লস-বুলিস ক্যান্ডেল এর ৪-৫ পিপ্স উপরে। ইমেজ দেখুন।
সবাই ভাল থাকবেন, ধন্যবাদ
ভাল লাগলে Comment করবেন। আর জানতে চাইলে আমি, আরিফ আহমেদ ০১৯৪৫৬০৬৮৬৫
চলুন আগে জেনে নিই Harami শব্দের অর্থ। এটা একটা জাপানি শব্দ যার অর্থ গর্ভবতী।
২টা ক্যান্ডেলস্টিক নিয়ে এটা গঠিত হয়। দেখতে অনেকটা গর্ভবতী মহিলার মত তাই এমন নাম দিয়েছেন জাপানি চাউল ব্যাবসায়িরা।
এই ২টা ফরমেশান নিয়ে ট্রেড করবেন কিভাবে?
১। প্রথমে এদের খুঁজে বের করুন।
২। পেয়ে গেলে দেখুন বুলিস হারামি না বেয়ারিশ হারামি।
৩। বুলিস হারামি হলে বাই, বেয়ারিশ হারামি হলে সেল।
৪। কিন্তু বুলিস হারামি ডাউন ট্রেন্ড-এর পর হতে হবে আর বেয়ারিশ হারামি আপ ট্রেন্ড এর পর হতে হবে।
৫। টেক প্রফিট-বুলিস হারামির জন্য স্টপ লস এর ২ গুন। স্টপ লস-বেয়ারিশ ক্যান্ডেল এর ৪-৫ পিপ্স নিচে। ইমেজ দেখুন।
৬। টেক প্রফিট-বেয়ারিশ হারামির জন্য স্টপ লস এর ২ গুন। স্টপ লস-বুলিস ক্যান্ডেল এর ৪-৫ পিপ্স উপরে। ইমেজ দেখুন।
সবাই ভাল থাকবেন, ধন্যবাদ
ভাল লাগলে Comment করবেন। আর জানতে চাইলে আমি, আরিফ আহমেদ ০১৯৪৫৬০৬৮৬৫
সুইং ট্রেডিং স্ট্রাটেজি - মাস্টার অফ অল স্ট্রাটেজিস (২য় ও গুরুত্বপুর্ন অংশ)
যাদের এই স্ট্রাটেজির ১ম পর্ব পড়া হয়নি তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে ১ম পর্ব পড়ে দেখার জন্যে।
১ম পর্ব পর্ব পাবেন এখানে ১ম পর্ব
২য় পর্বঃ
আসসালামু আলাইকুম। আজ শুরু করছি সুইং স্ট্রাটেজির ২য় ও শেষ পর্ব
সুইং ট্রেড সহ অন্যান্য ট্রেডিং মেথড এর ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট এর জন্যে অতি প্রয়োজনিয় ৫ টি বুলিশ ও ৫ টি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল পরিচিতি (যা লাগবেই) –
নিচে এই অতি গুরুত্যপুর্ন ৫ টি ক্যান্ডেল এর ছবি দেয়া হলো । ক্যান্ডেল এর ব্যাপারে বিস্তারিত লিখতে পারলে ভাল হতো কিন্তু তা করতে গেলে পোস্ট টি বেশি বড় হয়ে যাবে তাই আর কিছু লিখলাম না । তবে বিডিপিপস এ শ্রদ্ধ্যেয় নাসিম ভাই এর লেখা ক্যান্ডেলস্টিক এর উপর একটি বই আছে । আপনারা যারা ক্যান্ডেলস্টিক সম্পর্কে খুব একটা ভাল জানেন না তাদের অনুরোধ রইল অন্তত নিচের এই ৫ টি ক্যান্ডেল সম্পর্কে খুব ভাল করে পড়াশুনা করার জন্যে। ক্যান্ডেল স্টিক এর ব্যাপারে ডিটেইল্ড নলেজ এর কোনো বিকল্প নাই ।
এই স্ট্রাটেজি টি বিশ্বের প্রায় সব নামি দামি ট্রেডার রা ব্যাবহার করে থাকেন।ফলে আপনি কনফিডেন্টলি ট্রেড ওপেন করতে পারবেন কারন প্রায় সবাই এই মেথড টি ফলো করায় এখানে মার্কেট ভলিউম আপনার ট্রেড এর পক্ষেই থাকবে।
আপনি কোনো ট্রেড এন্ট্রি মিস করলেও পরবর্তি সুইং হাই বা সুইং লো লেভেল এ আপনি যথাক্রমে সেল ও বায় ট্রেড এন্ট্রি এর সুযোগ পাচ্ছেন।
যতক্ষন আপনি ট্রেন্ড ফলো করছেন ততক্ষন আপনি অনুমান করতে পারছেন যে পরবর্তি ট্রেড এন্ট্রি বা এক্সিট পয়েন্ট কোথায় বা কখন আপনাকে বের হয়ে যেতে হবে প্রফিট নিয়ে।
এই মেথড টি প্রায় সম্পুর্ন রুপে হিজিবিজি রংচং ওয়ালা ইন্ডিকেটর মুক্ত। এই মেথড এ একদম পরিস্কার চার্ট এবং শুধু ২ টা মুভিং এভারেজ ব্যাবহার করা হয়েছে যা বিশ্বের প্রায় সকল প্রফেশনাল ট্রেডার রা ব্যাবহার করে থাকে যার ফলে আপনি প্রাইস একশন নিয়ে ও আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে না। ফলে আপনি যে যায়গায় একটি এন্ট্রি সিগনাল দেখতে পাচ্ছেন অন্য সবাই ঠিক সেরকম টা ই দেখতে পাচ্ছে ফলে ফলে আপনি মার্কেট এর পক্ষেই থাকছেন।
মুভিং এভারেজ গুলো আপনাকে ডাইনামিক সাপোর্ট রেসিস্ট্যান্ট হিসেবে ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট সিগনাল প্রদান করবে। সাপর্ট রেসিস্ট্যান্ট নিয়ে আলাদা করে মাথা ঘামাতে হবে না।
আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি কোনো একটা পেয়ার এ ট্রেন্ড এর শেষ হওয়ার সাথে সাথে অন্য আরেকটা ট্রেন্ড ধরে ফেলতে পারবেন। তার মানে আপনি সারাক্ষন ই মার্কেট এর সাথে থাকছেন।
নিচে এর একটা উদাহরন দেয়া হলো-
প্রথমে চার্ট নং-১ এ খেয়াল করুন আমরা GBPUSD এর একটি ডাউনট্রেন্ড দেখতে পাচ্ছি।
চার্ট -১ এ আমরা লোয়ার হাই ৩ থেকে ৭ পর্যন্ত ৫ টি সেল সিগনাল দেখতে পাচ্ছি। আপনি এর যে কোনো একটি মিস করলেও পরবর্তি তে ঠিক ই সুজুগ পেতেন সেল এন্ট্রি নেয়ার আর এটাই সুইং ট্রেডিং এর মজা।
যাই হোক, এবার নিচে পরবর্তি চার্ট-২ এর দিকে খেয়াল করুন যা আগের চার্ট এর ৭ নং এন্ট্রি এর পরের চিত্র
চার্ট -২ এ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আগের চার্ট এর লোয়ার হাই ৭ থেকে এখানে লোয়ার হাই-১১ পর্যন্ত আমরা আরো কিছু সেল সিগনাল পাচ্ছি। কিন্তু এখানে LH-11 এর পর প্রাইস লোয়ার লো তৈরি করে এবার মুভিং এভারেজ এর উপরে চলে গিয়েছে এবং মুভিং এভারেজ এর উপরেই একটা বিয়ারিশ এঙ্গালফিং ক্যানডেল দিয়েছে আর সে তার আগের টপ বা রেসিস্ট্যান্ট যা LH-11 ছিল তার উপরে চলে গিয়েছে। তাই এখন আমরা ধরে নিতে পারি যে ডাউন ট্রেন্ড শেষ হয়ে গেছে।
এবার আমরা এর পরবর্তি আপডেট দেখতে নিচে চার্ট-৩ এ দেখব
উপরের ৩নং চার্ট এ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে মুভিং এভারেজ এর উপরে টপ লেভেল তৈরি করে প্রাইস নিচে নেমে গেছে কিন্তু তার আগের বটম বা সাপর্ট লেভেল কে অতিক্রম করতে পারে নি এবং একটি শক্তিশালি বুলিশ পিন বার তৈরি হয়েছে তার বটম এ এবং তারপর মার্কেট প্রাইস উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং নতুন হায়ার হাই-২ তৈরি করেছে। এভাবে HL-2, HH-3 তৈরি করেছে। এবং আমরা হায়ার লো-৩ ও তৈরি হতে দেখলাম এবং এই পয়েন্ট থেকেই আমরা বায় এন্ট্রি নিতে শুরু করব। এভাবে আমরা এখন একটি কনফার্মড বুলিশ আপট্রেন্ড পেলাম।
সুতরাং , দেখা যাচ্ছে যে একটি ডাউন ট্রেন্ড এ আমরা বেশ অনেকবার সুজুগ পেলাম সেল ট্রেড নেয়ার এবং ট্রেন্ড টির সমাপ্তি ও বুঝতে পারলাম মুভিং এভারেজ ও প্রাইস একশন এর মাধ্যমে এবং পরবর্তিতে আমরা একই চার্ট এ নতুন আরেকটি বুলিশ ট্রেন্ড পেয়ে গেলাম। এভাবে আমরা কনফিডেন্টলি একটার পর একটা ট্রেড এন্ট্রি নিতে পারব সুইং ট্রেডিং এর মাধ্যমে।
ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট
এতক্ষন আমরা সুইং ট্রেডিং এর এর ব্যাপারে বিস্তারিত জেনেছি।তবে এর কোনো কিছুই কোনো কাজে আসবে না যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট এর ব্যাপারে ডিসিপ্লিন্ড হবেন। সুইং ট্রেড এর এন্ট্রি এর বেলায় যে সব বিষয় অবস্যই মেনে চলতে হবে তা হলো –
আপ ট্রেন্ড এর ক্ষেত্রে ট্রেড এন্ট্রি ও টেইক প্রফিট লেভেলঃ
এন্ট্রি পয়েন্টঃ
অবশ্যই ২ টি হায়ার হাই Higher High (HH) বা টপ লেভেল ও ২ টি হায়ার লো Higher Low (HL) বা বটম লেভেল থাকতে হবে ট্রেন্ড কনফার্ম এর জন্যে।
(HH) এবং (HL) এদের সবাইকেই মুভিং এভারেজ (EMA-30 & , or EMA-50) এর উপর থাকতে হবে।
HH-২ কে HH-1 এর উপরে থাকতে হবে এবং HL-3 অর্থাৎ আমরা যেই লেভেলে ট্রেড এন্ট্রি নেব তাকে তার আগের বটম লেভেল বা HL-2 এর উপরে থাকতে হবে।
৩ নং হায়ার লো (HL) তে বায় ট্রেড এন্ট্রি নিতে হবে তবে এজন্যে শক্তিশালি বুলিশ ক্যান্ডেল থাকতে হবে (যেমনঃ পিন বার, এঙ্গালফিং, পিয়েরসিং, ডজি)
এক্সিট পয়েন্ট বা টেইক প্রফিট (TP):
টিপি সেট করতে হবে তার আগের হায়ার হাই লেভেল এ
অথবা যতক্ষন পর্যন্ত না কোনো শক্তিশালি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল ফর্ম হয়। কারন যখনই প্রাইস বাড়তে বাড়তে এমন একটা অবস্থানে বা প্রাইস লেভেলে যাবে যেটা হয়তো আগের কোনো সাপোর্ট ছিল বা ফিবনাচ্চি প্রাইস প্রেডিকশন লেভেল এ ছিল সেখানে তাই সব বায়ার রা ট্রেড ক্লোজ করে দিবে এবং এর ফলে মার্কেট এ বিয়ারিশ ক্যান্ডেল ফর্ম হবে এবং প্রাইস তখন ডাউন রিট্রে্সমেন্ট এর জন্যে তৈরি হবে তাই এরকম অবস্থায় যদি আপনি কোনো শক্তিশালি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল ফর্ম হতে দেখে থাকেন তবে আপনার ট্রেড ক্লোজ করে প্রফিট নিয়ে বের হয়ে যেতে পারেন ।
আপনারা চাইলে ফিবোনাচ্চি প্রোজেকশন টুল দিয়ে ও ট্রেড হোল্ডিং পয়েন্ট নির্নয় করতে পারেন।
স্টপ লসঃ
স্টপ লস সেট করতে হবে এন্ট্রি ক্যান্ডেল এর সরবনিম্ন প্রাইস এর চেয়ে ও ৫/১০ পিপস নিচে।
অথবা এন্ট্রি পয়েন্ট এর মুভিং এভারেজ এর ৫/১০ পিপস নিচে।
নিচে একটি উদাহরন দেয়া হলো আপ ট্রেন্ড এর এন্ট্রি, টিপি, এস এল সম্পর্কে –
ডাউন ট্রেন্ড এর ক্ষেত্রে ট্রেড এন্ট্রি পয়েন্টঃ
এন্ট্রি পয়েন্টঃ
অবশ্যই ২ টি লোয়ার হাই Lower High (LH) বা উপর থেকে নিচের দিকে ২ টি টপ লেভেল ও ২ টি লোয়ার লো Lower Low (LL) বা বটম লেভেল থাকতে হবে ট্রেন্ড কনফার্ম এর জন্যে।
(LH) এবং (LL) এদের সবাইকেই মুভিং এভারেজ (EMA-30 & , or EMA-50) এর নিচে থাকতে হবে।
LL-2 কে LL-1 এর নিচে থাকতে হবে এবং আমরা ৩ নং লোয়ার হাই তে সেল নিব এবং লোয়ার হাই ৩ (LH-3) কে তার আগের লোয়ার হাই (LH-2) এর নিচে থাকতে হবে।
৩ নং লোয়ার হাই (LH) তে সেল ট্রেড এন্ট্রি নিতে হবে তবে এজন্যে শক্তিশালি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল থাকতে হবে (যেমনঃ পিন বার, এঙ্গালফিং, পিয়েরসিং, ডজি)
এক্সিট পয়েন্ট বা টেইক প্রফিট (TP):
টিপি সেট করতে হবে তার আগের Lower Low(LL) লেভেল এ
অথবা যতক্ষন পর্যন্ত না কোনো শক্তিশালি Bullish or Doji ক্যান্ডেল ফর্ম হয়।
স্টপ লসঃ
স্টপ লস সেট করতে হবে এন্ট্রি ক্যান্ডেল এর সর্বচ্চ প্রাইস এর চেয়ে ও ৫/১০ পিপস উপরে।
অথবা এন্ট্রি পয়েন্ট এর মুভিং এভারেজ এর ৫/১০ পিপস উপরে।
নিচে ডাউন ট্রেন্ড এর এন্ট্রি , এস এল, টিপি এর একটি উদাহরন দেয়া হলো । চার্ট টি খেয়াল করুন-
তো আমরা দেখলাম যে কিভাবে কোন পয়েন্টে ট্রেড এন্ট্রি নিতে হবে ,কোথায় এস এল বসাতে হবে আর কোথায় প্রফিট নিয়ে বের হয়ে যেতে হবে।
কখন বুঝবেন যে ট্রেন্ড এর সমাপ্তি ঘটছেঃ
ট্রেন্ড এর সমাপ্তি বুঝার জন্যে আপনাকে সাপোর্ট ও রেসিস্ট্যান্ট এর উপর ভাল ধারনা থাকতে হবে। যেমন – কোনো আপট্রেন্ড মার্কেটে প্রত্যেক হায়ার হাই লেভেল বা টপ লেভেল এর ক্ষেত্রে ২ নং হায়ার হাই/টপ কে ১ নং এর উপরে থাকতে হবে , আবার ৩ নং HH কে ২ নং এর উপর থাকতে হবে। এভাবে প্রত্যেক হায়ার হাইস (HH) এবং হায়ার লো (HL) কে তার আগের (HH) ,(HL) এর উপর থাকতে হবে। কিন্তু যদি কখনো দেখা যায় যে একটি হায়ার হাই তার আগের হায়ার হাই বা সর্বোচ্চ লেভেল কে ক্রস করে উপরে উঠতে পারে নি এবং নতুন হায়ার হাই বা টপ লেভেল তৈরি করতে পারে নি তবে আমাদেরকে সাবধান হয়ে যেতে হবে এবং দেখতে হবে যে নতুন হায়ার লো বা বটম লেভেল তার আগের বটম লেভেল বা হায়ার লো এর উপরে ফর্ম হয় কিনা। কিন্তু যদি দেখা যায় যে আমরা নতুন হায়ার লো পেলাম না অর্থাৎ নতুন তৈরি হওয়া বটম লেভেল বা তার আগের হায়ার লো (HL) এর উপরে যেতে পারে নি এবং প্রাইস তার আগের হায়ার লো এর নিচে গিয়ে ক্লোজ হয়েছে তবে আমরা আমাদের সব বায় ট্রেড ক্লোজ করে দিয়ে সেল ট্রেড এর অপরচুনিটি খুজব।
মুভিং এভারেজ এর মাধ্যমেও এটা করা যায় যেমন মুভিং এভারেজ এর নিচে যদি হায়ার লো ফর্ম হয় তবে আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে এটা দেখার জন্যে যে নতুন করে যে টপ লেভেল তৈরি হবে সেটা তার আগের হায়ার হাই কে ক্রস করে উপরে চলে যেতে পারে কিনা। কিন্তু যদি দেখা যায় যে নতুন টপ লেভেল ও মুভং এভারেজ এর নিচে চলে এসেছে অর্থাৎ হায়ার হাই এবং হায়ার লো ২ টা এ যদি তাদের আগের হায়ার হাই ও হায়ার লো কে ক্রস করতে না পারে এবং মুভিং এভারেজ এর নিচে চলে আসে তবে আমাদেরকে বুঝে নিতে হবে যে মার্কেট এর আপ ট্রেন্ড শেষ হয়ে এখন ডাউন ট্রেন্ড এর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
নিচে চার্ট এর মাধ্যমে ব্যাপার টা আরো ডিটেইল্ড দেখানো হলোঃ
এভাবে আপনি ডাউন ট্রেন্ড এর সমাপ্তি ও বের করতে পারবেন। ডাউন ট্রেন্ড এর বেলায় লোয়ার হাই (LH) ও লোয়ার লো(LL) প্রত্যেক কেই পর্যায় ক্রমে নিচে অবস্থান করতে হবে।
এই সিস্টেম টি চাইলে আরো মডিফাই করা যায় ফিবোনাচ্চি দিয়ে। আপনি কোনো একটা ট্রেড এন্ট্রি নিয়ে সেটা কোন লেভেল পর্যন্ত হোল্ড করে রাখবেন তা আপনি ফিবনাচ্চি প্রোজেকশন টুল এর মাধ্যমে বের করতে পারবেন আর ফিবোনাচ্চি প্রসঙ্গে বিডিপিপস এ বিস্তারিত আর্টিক্যাল আছে প্রয়জনে দেখে নিতে পারেন। এবং ট্রেড ফিল্টার এর জন্যে RSI , Stochastic , Volume ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করা যেতে পারে । তবে আমি এত সব কিছুর উল্যেখ করি নি কারন তাতে সিস্টেম টা অনেক ঝামেলার হয়ে যাবে আর এছাড়াও আরো কিছু সমস্যা হবে।
যেমন- আপনি যখন একটি ইন্ডিকেটরও এই সিস্টেম এ ইনক্লুড করবেন তখন আপনার ট্রেড এন্ট্রি এক্সিট এর জন্যে আপনি এক্সট্রা আরেকটা টুল এর উপর ডিপেন্ডেন্ট হয়ে পড়বেন।আর এতে আপনি অনেক সময় কনফিউজড হয়ে পড়বেন কারন আপনাকে তখন একটা ট্রেড এন্ট্রি এর জন্যে বেশ অনেক গুলা বিষয়ে মাথা ঘামাতে হবে যার কোনো প্রয়োজনিয়তা আমি দেখি না।আর আপনি যেই ইন্ডিকেটর ই ব্যাবহার করেন না কেন আপনি ট্রেড এন্ট্রি নেয়ার সময় কিছুটা কনফিউজড হবেনই কারন ইন্ডিকেটর সবসময়ই দেরিতে সিগন্যাল দেয় কিন্তু লাইভ ক্যান্ডেল দেখে ট্রেড এন্ট্রি নিলে আপনি একদম প্রথম দিকেই ট্রেড এন্ট্রি নিয়ে নিতে পারবেন।তবে আপনি চাইলে ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করতে পারেন যদি আপনি খুব দক্ষ হয়ে থাকেন এবং আপনার ট্রেডিং ইমোশন কে কন্ট্রোল করতে পারেন। তবে আমি যতটুকু দেখিয়েছি ততোটুকুই যথেস্ট যদি আপনারা এটা ভালভাবে প্রেকটিস করতে পারেন ।
বলিউডের ‘চাঁদনী চক টু চায়না’ মুভি তে ইন্সপেক্টর চেং এর একটা কথা আমার খুব ভাল লেগেছিল । তিনি বলেছিলেন যে ‘তোমার সেই ১০০ মুভ এ আমার ভয় নেই যা তুমি একবার প্র্যাকটিস করেছ , আমার সেই ১ টি মুভ এই ভয় যা তুমি ১০০ বার প্র্যাকটিস করেছ’ । ফরেক্স এ টিকে থাকার জন্যে প্রত্যেক এর উচিত এরকম করে ভাল একটি স্ট্রাটেজি কে বার বার প্র্যাক্টিস করা যতো সময় ই লাগুক না কেনো যাতে করে কোনো একটি চার্ট দেখেই আমরা বলে দিতে পারি যে মার্কেট এর বর্তমান সিচুয়েশন এবং ভবিশ্যতে কি হতে পারে।
আর সুইং ট্রেডিং এর মত প্রাইস একশন ট্রেডিং স্ট্রাটেজি খুব কম ই আছে আর আমি যেটা শেয়ার করলাম তা প্রায় ৯০% এক্যুরিটি দিবে যদি এর প্রত্যেক নিয়ম খুব ভাল ভাবে ফলো করতে পারেন। আপনারা আপনাদের চার্ট কে সাজিয়ে নিয়ে অতিতের চার্ট গুলো স্ক্রল করে এরকম ট্রেন্ড খুজে বের করে করে প্র্যাক্টিস করে নিবেন এই স্ট্রাটেজি ভাল করে আয়ত্ত করতে চাইলে।
প্রত্যেক হায়ার টাইম ফ্রেম (H4,Daily, Weakly ) এবং প্রায় সব হায়ার ট্রেড ভলিউম এর পেয়ার এরকম ট্রেন্ড ফলো করে। যেমন EURUSD , EURJPY , GBPUSD , GBPGPY , AUDUSD ইত্যাদি। প্রতি পেয়ার এবং সব হায়ার টাইম ফ্রেম এ আপনি প্রতি মাসেই এরকম ট্রেন্ডিং দেখতে পাবেন যার প্রত্যেক ভ্যালিড সুইং লেভেল গুলোতে আপনি ট্রেড এন্ট্রি নেয়ার সুজোগ পাবেন তাই আপনি যদি ফরেক্স মার্কেটে এখনো পর্যন্ত অনেক লস করে করে নিজের এবং ফরেক্সের উপর থেকে আস্থা হাড়িয়ে ফেলে থাকেন তবে এই স্ট্রাটেজি টি আপনার খুব ভাল ভাবে প্র্যাক্টিস করা উচিত কারন এটা প্রায় সব প্রোফেশনাল ট্রেডার দের দ্বারা ভেরিফাইড এবং আপনি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে অন্য যে কোনো স্ট্রাটেজি আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন এবং নিজে নিজে মার্কেট এনালাইস করতে পারবেন কারন এটা একই সাথে ট্রেন্ডিং,সুইং এবং পরিস্কার চার্ট সমৃদ্ধ একটি পরিপুর্ন প্রাইস একশন স্ট্রাটেজি।
ভবিশ্যতে সময় ও সুজুগ পেলে টেকনিক্যাল চার্ট এনালাইসিস ও আরো কিছু স্ট্রাটেজিক প্ল্যান আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন ও আমার জন্যে দোয়া করবেন। স্ট্রাটেজি টা লিখতে গিয়ে যে সময় ও কস্ট ব্যয় হয়েছে তার পুরোটাই সার্থক হবে যদি আপনারা এই স্ট্রাটেজির সুফল পেয়ে থাকেন।
পোস্ট এবং স্ট্রাটেজি সম্পর্কে আপনাদের কোনো প্রশ্ন ,পরামর্শ বা মন্তব্য থাকলে কমেন্টে তা লিখে জানানোর অনুরোধ রইলো ।
আসসালামু আলাইকুম। :)
যাদের এই স্ট্রাটেজির ১ম পর্ব পড়া হয়নি তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে ১ম পর্ব পড়ে দেখার জন্যে।
১ম পর্ব পর্ব পাবেন এখানে ১ম পর্ব
ফরেক্স সম্পর্কিত কোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ থাকলে আমাকে ফোন করতে পারেনঃ ০১৬৮০ ৭৪৩২৩৮
সুইং ট্রেডিং স্ট্রাটেজি - মাস্টার অফ অল স্ট্রাটেজিস (১ম পর্ব)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
পোস্ট এর শুরুতেই আমি আমার ব্যাপারে কিছু কথা বলে নেই। ২০১২ সালের প্রায় শুরুর দিকেই ফরেক্স এর সাথে আমার পরিচয় হয় আমার এক বড় ভাই কে ফরেক্স করতে দেখে।উনার লেপটপ এ ফরেক্স মেটা ট্রেডার এর হিজিবিজি চার্ট দেখেই ফরেক্স এর উপর ভয় ধরে গেল। তাই এতা নিয়ে আর মাথা ঘামালাম না। কিন্তু এর কিছুদিন পর টেকটিউনস এ এর ব্যাপারে বিস্তারিত শুনার পর ই ফরেক্স সম্পরকে আগ্রহ জন্মাল । এরপর নিজে নিজে বিভিন্ন সাইট থেকে অনেক আরটিকেল , বই, ইউটিউব থেকে ভিডিও লেকচার আর স্ট্রাটেজিক প্ল্যান পড়াশুনা করে ও গত প্রায় ৩ বছর যাবত ফরেক্স এর সাথে লেগে থাকার কারনেই এতদুর পর্যন্ত আসা। তবে আমার ফরেক্স এর স্কুল শিক্ষা টা আমি বিডিপিপ্স এর কাছ থেকেই পেয়েছি। তাই বিডিপিপস এর অসংখ্য লেখক ও বিডিপিপ্স টিম কে অনেক ধন্যবাদ।
আজ আমি যে স্ট্রাটেজি শেয়ার করতে যাচ্ছি তা এখনো পর্যন্ত আমার দেখা সবচেয়ে সিম্পল কিন্তু কার্যকরি ট্রেডিং স্ট্রাটেজি এবং ভালভাবে প্র্যাকটিস করতে পারলে এর প্রফিট এক্যুরেসি ৯০% কারন বিশ্বের প্রায় সকল প্রফেশনাল ট্রেডার ই এই স্ট্রাটেজি ফলো করে থাকে । এই আর্টিক্যাল এর শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকুন, পর্যাপ্ত পরিমান চার্ট ইমেজ এর ব্যাখ্যা সহ উদাহরন ও বিস্তারিত আলোচনা আপনাকে সম্পুর্ন ভাবে এই স্ট্রাটেজি বুঝতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।
সুইং ট্রেডিং (Swing Trading) কি ?
সুইং (swing) শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো দোলনা,ঢেউ,তরঙ্গ –ইত্যাদি। দোলনা কে যদি ধাক্কা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় তবে নিচ থেকে এটা প্রথমে অনেকটা উপরে উঠবে তারপর নিচে নেমে আসবে , এরপর আবারো উপরে উঠবে ও নিচে নেমে আসবে। এভাবে সে একবার উপরে উঠে ও একবার নিচে নামে ঠিক একই ডিরেকশন এ।এভাবে চলতেই থাকে যতক্ষন না পর্যন্ত কেউ তাকে থামায় বা আবারও তাকে ধাক্কা দিবে পুনরায় দোল দেয়ার জন্যে।
ফরেক্স মার্কেটেও ঠিক এমনটা ই হয়ে থাকে বেশিরভাগ সময়।সুইং ট্রেডিং করতে হয় মার্কেট এর কোনো একটি নির্দিস্ট আপ ট্রেন্ড বা ডাউন ট্রেন্ড এ।আপ ট্রেন্ড এর সুইং লো Swing Low বা Higher Low (HL) পয়েন্ট এ বায় করতে হয় আর ডাউন ট্রেন্ড এ Swing High বা Lower High (LH)পয়েন্ট এ সেল করতে হয়।
অথবা সহজ ভাষায় বলতে গেলে কোনো একটি ট্রেন্ড এর রিট্রেসমেন্ট লেভেলে বায় বা সেল ট্রেড এর অপরচুনিটি খুজে বের করা এবং সেই অনুযায়ি ট্রেড এন্ট্রি নেয়া যাতে করে আমরা সর্বনিম্ন প্রাইস এ বায় করে সর্বোচ্চ প্রাইস এ সেল করে দিতে পারি আপট্রেন্ড এর ক্ষেত্রে আর ডাউন ট্রেন্ড এর ক্ষেত্রে টপ পয়েন্ট এ সেল অর্ডার নিয়ে একদম কম প্রাইস লেভেল এ ট্রেড ক্লোজ করে দিয়ে সর্বোচ্চ প্রফিট নিয়ে বের হয়ে যেতে পারি।
যারা এখন ও একদম নতুন তাদের জন্যে আপ ট্রেন্ড ও ডাউন ট্রেন্ড এবং সুইং হাই ও সুইং লো সম্পরকে প্রথমেই কিছুটা ধারনা দেয়া হলো ।
আপ ট্রেন্ড
মার্কেট এ যখন কোনো একটি ট্রেন্ড এর শুরুতে কোনো পেয়ার এ বায়ার দের সংখ্যা বেড়ে যায় তখন সেই পেয়ার টি উপরের দিকে উঠতে থাকে যা আমরা চার্ট এ ক্যেন্ডেল স্টিক এর মধ্যমে বুঝতে পারি। এভাবে কিছুক্ষন বা কয়েকদিন ধরে যখন একটা পেয়ার উপরের দিকে উঠতে থাকে তখন অনেক বায়ার তাদের ট্রেড ক্লোজ করে দেয় এবং তখন মার্কেট এ সেলার দের আধিক্য বেড়ে যায় ফলে চার্ট এ ক্যান্ডেল গুলো নিচের দিকে নামতে থাকে। নিচে নামার আগের সেই সর্বচ্চ লেভেল টি কে আমারা বলি হায়ার হাই Higher High (HH)। কিন্তু কয়েকটা ক্যান্ডেল নামার পরেই যখন আবার ও বায়ার রা সেই পেয়ার বাই করতে থাকে তখন সেই পেয়ার এর প্রাইস যেই লেভেল থেকে বাড়তে শুরু করেছে সেই সর্ব নিম্ন প্রাইজ লেভেল টি কে বলে ‘হায়ার লো’ Higher Low (HL) ।আবার প্রাইজ বাড়তে বাড়তে তার আগের সর্বোচ্চ প্রাইজ এর উপরে চলে যায় ও নতুন করে একটি টপ লেভেল বা হায়ার হাই (HH) তৈরি করে। আবার ও যখন এভাবে বেশ কিছুক্ষন চলার পর মার্কেট এ সেলার দের উপস্থিতি ঘটে ও বায়ার দের সংখ্যা কমে যায় তখন প্রাইস নিচের দিকে নামতে থাকে কিন্তু এর আগের সরবনিম্ন প্রাইস রেট কে অতিক্রম করার আগেই আবারো বায়ার রা মার্কেট এর কনট্রোল নিয়ে নেয় (HL) তখন মার্কেট আবার ও উপরের দিকে উঠতে উঠতে তার আগের সরবচ্চ প্রাইস লেভেল/টপ বা চুরার উপরে উঠে যায় ও আবার ও একটি (HH) তৈরি হয়। এভাবে কোনো পেয়ার এ ক্রমাগত ভাবে হায়ার হাই(HH) বা টপ লেভেল, হায়ার লো(HL) বা বটম লেভেল তৈরি হলে যে ওয়েভ বা ঢেউ বা ট্রেন্ড ফর্ম হয় সেই ট্রেন্ড টি কে আপট্রেন্ড বলে।
ডাউন ট্রেন্ড হলো তার ঠিক বিপরিত। এতে ক্রমাগত ভাবে লোয়ার হাই(LH) ও লোয়ার লো(LL) তৈরি হয়। এরকম আপট্রেন্ড এর সময় আমাদেরকে বায় (Buy) করতে হয় ট্রেন্ড এর HL পয়েন্ট এ এবং সেল করতে হয় ডাউন ট্রেন্ড এর লোয়ার হাই (LH) লেভেল এ। এখন অনেকেই বুঝতে পারে না যে চার্ট এ প্রাইস একশন এর বেলায় কোন লেভেল টি কে টপ বলা যায় বা কয়টি ক্যান্ডেল উপরের দিকে উঠলে তাকে আমরা টপ লেভেল/রেসিস্ট্যান্ট বা হায়ার হাই, লোয়ার হাই বলবো এবং কয়টি ক্যান্ডেল নিচে গেলে আমরা তাকে একটি বটম (Bottom) /সাপোর্ট বা (HL),(LL) বলবো। এ ব্যাপারে ভাল ধারনার জন্যে নিচের ছবি টি তে লক্ষ্য করুন,-
অর্থাৎ কম্পক্ষ্যে ৩ টি ভাল মানের ক্যান্ডেল যদি উপরের দিকে উঠে যায় তবে সেটা একটি টপ লেভেল তৈরি করে এবং ৩ টি ভাল মানের ক্যান্ডেল নিচে নেমে গেল একটি আদর্শ বটম তৈরি হয়।
এখানে ভাল মানের বলতে বুঝাতে চেয়েছি যে ক্যান্ডেল এর ওপেন প্রাইজ আর ক্লোজিং প্রাইজ এর মধ্যে মুটামুটি প্রাইজ গ্যাপ থাকতে হবে যাতে করে ক্যান্ডেল কে খুব ছোট না দেখায় বা ওপেন প্রাইজ আর ক্লোজিং প্রাইজ যাতে সমান হয়ে না যায়। তবে সুইং ট্রেডিং এর ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে ক্যান্ডেল এর সাইজ কিছুটা ছোট হলেও সমস্যা নাই কারন মাঝে মাঝে প্রাইস প্রায় একই জায়গায় ঘুরাঘুরি করে কয়েকটা ডজি ক্যান্ডেল ফর্ম করে তারপর আবারো তার ট্রেন্ড এর দিকে যেতে থাকে।
এখন সুইং ট্রেডিং এর জন্যে আমাদের কে এরকম নির্দিস্ট একটি ট্রেন্ড এর জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। আমরা সবাই জানি যে ফরেক্সে “ট্রেন্ড ইজ ইউর ফ্রেন্ড” আর একারনেই আমরা কখন ও সুইং ট্রেডিং এ “আপট্রেন্ড এর বেলায় সেল পজিশন এ যাব না , আর ডাউন ট্রেন্ড এর সময় কখনও বায় পজিশন এ যাব না” । এই কথাটি মনে না রাখতে পারলে সুইং ট্রেডিং আপনার জন্যে না।
সুইং ট্রেডিং এ- আপট্রেন্ড এর বেলায় যেখানে মার্কেট এ প্রাইজ নিচ থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করে আমরা সেই পয়েন্ট টি তেই বায় করব যাতে আমরা কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে পারি আর এই পয়েন্ট টি কেই বলা হয় “সুইং লো(Swing Low)”
আর ডাউন ট্রেন্ড এ মার্কেট প্রাইজ যখন উপর থেকে লোয়ার হাই (LH) তৈরি করে আমরা সেই পয়েন্ট টি কে বলব “সুইং হাই(Swing High)” এবং আমরা এই সুইং হাই লেভেল এ কোনো পেয়ার কে সেল করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব।
নিচে আমরা পর্যায় ক্রমে দেখব যে কিভাবে মার্কেট এর ট্রেন্ড নির্নয় করা যায় ও কোনো ট্রেন্ডিং মার্কেট এ সুইং হাই (Swing High) ও সুইং লো ( Swing Low) সঠিক ও প্রায় নির্ভুল ভাবে বের করে সেই অনুযায়ি ট্রেড এন্ট্রি নেয়ার মাধ্যমে প্রফিট করা যায়।
সুইং ট্রেডিং এর জন্যে আমাদের যা যা লাগবে
সুইং ট্রেডিং এর জন্যে আমাদের যে ব্যাপার বিষয় গুলো সম্পরকে মোটামুটি ধারনা থাকতে হবে তা হলো –
* ট্রেন্ড (আপ ট্রেন্ড, ডাউন ট্রেন্ড)
* নির্দিস্ট কিছু ক্যান্ডেল স্টিক। (ক্যান্ডেল স্টিক হলো ফরেক্স এর সবচেয়ে গুরুত্তপুর্ন বিষয় । ক্যান্ডেল স্টিক শেখা ছাড়া আপনি ফরেক্সে বেশিদিন টিকে থাকতে পারবেন না। আর ক্যান্ডেল ফর্মেশন বুঝার জন্যে আপনি ১ মিনিট টাইম ফ্রেম এ লাইভ মার্কেট আপ ডাউন দেখতে পারেন । এতে আপনার কম সময়ে মার্কেট গতিবিধি ও ক্যান্ডেল ফরমেশন সম্পর্কে ভাল ধারনা হবে। আর আপনাকে এ বিষয়ে আরো পড়াশুনা ও করতে হবে যদি ক্যান্ডেলস্টিক সম্পর্কে আপনার ভাল ধারনা না থেকে থাকে তবে। )
* প্রাইস একশন
* মুভিং এভারেজ
ট্রেন্ড খুজে বের করা
সুইং ট্রেডিং এর প্রধান শর্ত ই হলো কোনো একটি পেয়ার একটি নির্দিস্ট ট্রেন্ড এ থাকতে হবে, হয় আপট্রেন্ড অথবা ডাউন ট্রেন্ড। আর ট্রেন্ড খুজে বের করার জন্যে আমরা মুভিং এভারেজ নামক ইন্ডিকেটর এর সাহায্য নিব। এক্ষেত্রে আমার পছন্দ হল 30 EMA( 30 Exponential Moving Average ) ও 50 -EMA (Exponential Moving Average) । অনেকেই আরো অনেক মুভিং এভারেজ ব্যাবহার করে থাকেন তবে আমার এই ২ টা ই পছন্দ। যারা নতুন তারা মুভিং এভারেজ ইন্ডিকেটর টি আপনার মেটাট্রেডার টারমিনালেই পাবেন। আপনার মেটাট্রেডার টারমিনাল ওপেন করে Insert-Indicator-Trend-Moving Average অপশন এ গিয়ে পিরিয়ড-৩০,মেথড-এক্সপোনেনশিয়াল,এপ্লাই টু – ক্লোজ, কালার –(আপনার ইচ্ছামত) দিয়ে ওকে দিয়ে বের হয়ে আসুন। তবে আমি আমার চার্ট এ ৩০EMA এর জন্যে নীল রঙ আর ৫০EMA এর জন্যে অরেঞ্জ রেড ব্যাবহার করেছি।
এবার চলুন এই সেটিংস গুলা দিয়ে একটা ডাউন্ট্রেন্ড চার্ট কনফার্ম করি। নিচের চার্ট টি লক্ষ্য করুন -
উপরের চার্ট এ আমরা একটি ডাউন্ট্রেনড চার্ট দেখতে পাচ্ছি। আমরা দেখলাম যে প্রথম LH-1 একটি টপ লেভেল যেখান থেকে প্রাইস নামতে নামতে মুভিং এভারেজ এর নিচে চলে এসে অনেক দূর পর্যন্ত গিয়ে একটা Lower Low (LL-1) তৈরি করে আবার ও উপরের দিকে প্রাইস বাড়তে বাড়তে মুভিং এভারেজ এর কাছাকাছি চলে এসেছে আমরা এখনো সেল অর্ডার দিব না কারন আমরা জানি না যে প্রাইস আর বেড়ে গিয়ে তার আগের Lower High /Top কে ব্রেক করে উপরে চলে যাবে কিনা , আর আমরা আগে থেকে জানি যে ২ টা টপ বা লোয়ার হাই ও লোয়ার লো থাকতে হবে ট্রেন্ড কনফার্ম হওয়ার জন্যে। সুতরাং আমরা আরেকটা Lower High-2 (LH) পেলাম। এরপর প্রাইস LH-2 থেকে আরো নিচে নেমে গিয়ে তার আগের সরবনিম্ন প্রাইস লেভেল/ বটম লেভেল কে ক্রস করে নতুন একটি লোয়ার লো (LL-2) তৈরি করেছে এবং আবারো উপরের দিকে উঠতে উঠতে মুভিং এভারেজ কে নিচে থেকে স্পর্শ করে একটি বড় বিয়ারিশ ক্যান্ডেল ফর্ম করার মাধ্যমে ৩ নং Lower High (LH-3) তৈরি করেছে যা,তার পুর্বের টপ/LH- 2 এর নিচে অর্থাৎ রেসিস্টেন্ট ব্রেক করতে পারে নি। এবং সেইসাথে আমরা আমাদের কাংখিত সেল অর্ডার কনফারমেশন পেয়ে গেলাম।এরপর আমরা আর ও অনেক গুলো সেল ট্রেড এন্ট্রি পাচ্ছি এই ট্রেন্ড থেকে। এভাবে আমরা ডাউন ট্রেন্ড মার্কেট এ মুভিং এভারেজ এর নিচে ৩ নং লোয়ার হাই থেকে শুরু করে প্রত্যেক লোয়ার হাই পয়েন্টে শক্তিশালি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল এ সেল ট্রেড এন্ট্রি দিতে পারি যতক্ষন না ট্রেন্ড শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে এর পরের পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
আপ ট্রেন্ড এন্ট্রি
এবার চলুন একটি আপট্রেন্ড মার্কেট এ সুইং ট্রেড খুজি । নিচের চার্ট টি লক্ষ্য করুন-
আজ ১ম পর্বে এতটুকুই থাকছে কারন পোস্ট খুব বড় হয়ে গেলে পড়ার ধইর্য থাকে না আর আমি চাই না এরকম ভাল একটি প্রাইস একশন স্ট্রাটেজি কেউ না পড়ে ,না বুঝে চলে যাক।এই স্ট্রাটেজি টা আমার নিজের ই খুব ফেভারেট। তাই ২ নং পর্বে আমরা এই সুইং ট্রেডিং এর উপর ট্রেড Entry ও Exit পয়েন্ট সহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুর্নাঙ্গ আলোচনা করব।
২ নং পর্বে যা যা থাকছেঃ
* সুইং ট্রেড সহ অন্যান্য ট্রেডিং মেথড এর ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট এর জন্যে অতি প্রয়োজনিয় ৫ টি বুলিশ ও ৫ টি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল পরিচিতি (যা লাগবেই)
* আরো ছবি ও উদাহরন সহ ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট এর বিস্তারিত বর্ননা
* স্টপ লস ও টেইক প্রফিট লেভেল চিহ্নিতকরণ
* সুইং ট্রেড এর সুবিধা সমুহ
ফরেক্স সম্পর্কিত কোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ থাকলে আমাকে ফোন করতে পারেনঃ ০১৬৮০ ৭৪৩২৩৮
ভাল থাকবেন সবাই। :bye:
পোস্ট এর ২য় পার্ট টা পড়তে এখানে ক্লিক করুন
অথবা
সুইং ট্রেডিং স্ট্রাটেজি - মাস্টার অফ অল স্ট্রাটেজিস (২য় ও গুরুত্বপুর্ন অংশ)
Subscribe to:
Posts (Atom)




























